ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

সাইপ্রাসে নরসিংদীর শিক্ষার্থী ইমনকে অপহরণের পর হত্যা, গ্রেপ্তার ১

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

উচ্চশিক্ষার জন্য সাইপ্রাসে যাওয়া নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার তরুণ শাহরিয়ার আহমেদ (ইমন) অপহরণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে শাহীন বাবু (২২) নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে সাইপ্রাস পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি জঙ্গল থেকে শাহরিয়ারের মরদেহ ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।

নিহত শাহরিয়ার আহমেদ (২২) রায়পুরা উপজেলার উত্তরবাখরনগর ইউনিয়নের লোচনপুর গ্রামের গ্রিসপ্রবাসী নাসির মিয়ার ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। প্রায় তিন মাস আগে শিক্ষার্থী ভিসায় ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে যান তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিদেশে যাওয়ার আগে অনলাইনে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন শাহরিয়ার। সাইপ্রাসে গিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের খরচ চালাতে চাকরির খোঁজ করছিলেন। গত ১১ জুন বিকেলে মায়ের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলে তিনি জানান, একটি চাকরির ব্যবস্থা হয়েছে এবং সেদিন রাত থেকেই কাজে যোগ দেবেন।

একই দিন স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে কর্মস্থলে পৌঁছে নিজের অবস্থানের লোকেশন রুমমেট রায়হান মিয়ার কাছে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান শাহরিয়ার। এরপর থেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পরবর্তীতে রাত ১০টার দিকে শাহরিয়ারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে তার বাবা নাসির মিয়ার কাছে একটি বার্তা পাঠানো হয়। এতে দাবি করা হয়, শাহরিয়ারকে অপহরণ করা হয়েছে এবং মুক্তিপণ হিসেবে ৩৫ হাজার ইউরো দিতে হবে। অন্যথায় তাকে হত্যা করে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রি করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।

পরদিন ১২ জুন সকালে শাহরিয়ার কর্মস্থল থেকে ফিরে না আসায় রুমমেট রায়হান স্থানীয় থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরে পুলিশ তার পাঠানো সর্বশেষ লোকেশন এলাকায় অনুসন্ধান চালালেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এদিকে পরিবারের কাছে প্রতিনিয়ত মুক্তিপণের টাকা দাবি করা হচ্ছিল।

নিহতের ছোট ভাই নয়ন আহমেদ জানান, দীর্ঘদিন কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে মুক্তিপণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দর-কষাকষির পর পাঁচ লাখ টাকায় সমঝোতাও হয়। তবে টাকা পাঠানোর আগে ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে অপহরণকারীদের আচরণে সন্দেহ দেখা দেয়। পরে টাকা না পাঠিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন তারা।

তিনি আরও জানান, রোববার রাতে জানতে পারেন সাইপ্রাস পুলিশ শাহীন বাবু নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় একটি জঙ্গল থেকে পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা শাহরিয়ারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, “সাইপ্রাসে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অপহরণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন বলে জেনেছি। এ ঘটনায় একজন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও শুনেছি। তবে বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের জানানো হয়নি। নিহতের পরিবার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চাইলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় সাইপ্রাস পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। হত্যার পেছনের কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।