ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
অভিযুক্ত বাবা-ছেলে। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

নাটোরের বড়াইগ্রামে সপ্তম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৪) বিভিন্ন সময় ধর্ষণ করতেন বাবা ও ছেলে- এমন অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একপর্যায়ে ভুক্তভোগী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে বলেও জানা গেছে। ঘটনা জানাজানি হলে গ্রাম্য সালিসে ১০ লাখ টাকা কাবিননামা ও ৪ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার বিনিময়ে ছেলের সঙ্গে ওই ছাত্রীর বিয়ে দেওয়া হয়। তবে এ বিয়ে বৈধ নয় জানতে পেরে ভুক্তভোগীর বড় ভাই থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ আজ সোমবার ভোরে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।

অভিযুক্তরা হলেন- শামসুল হক গাজী (৬০) ও তার ছেলে আরিফুল ইসলাম (৩০)। তাদের বাড়ি উপজেলার বনপাড়া পৌর শহরের মালিপাড়া পশ্চিমাংশ এলাকায়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ভুক্তভোগীর বাড়ির পাশে শামসুল হক গাজীর চা-বিস্কুটের দোকান রয়েছে। বিভিন্ন সময় বিস্কুট কিনতে ওই ছাত্রী দোকানে আসত। এ সময় মেয়েটির প্রতি তার নজর পড়ে। তিনি খেয়াল রাখতেন কখন মেয়েটিকে বাড়িতে একা পাওয়া যাবে। একপর্যায়ে ফাঁকা বাড়িতে একা পেয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে জানালে গলা টিপে হত্যার হুমকিও দেন।

অন্যদিকে, বাবার অনুপস্থিতিতে মাঝে-মধ্যে রডমিস্ত্রি ছেলে আরিফুল ইসলাম চা-বিস্কুটের দোকান চালাতেন। তারও নজর পড়ে ওই মেয়েটির ওপর। সুযোগ বুঝে সেও ফাঁকা বাড়িতে একা পেয়ে মেয়েটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এভাবেই প্রায়ই বাবা ও ছেলের দ্বারা সে ধর্ষণের শিকার হতো।

একপর্যায়ে শরীরের পরিবর্তন দেখে মেয়েটির মা তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে জানা যায়, সে গর্ভবতী। পরে বাড়িতে এসে বিস্তারিত জানালে স্থানীয় গ্রামপ্রধানরা বৃহস্পতিবার রাতে সালিসে বসেন। সেখানে ১০ লাখ টাকা কাবিননামা ও ৪ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার বিনিময়ে আরিফুল ইসলামের সঙ্গে ধর্ষণের শিকার অন্তঃসত্ত্বা মেয়েটির বিয়ে দেওয়া হয়। তবে এ বিয়ে শরিয়ত ও আইন অনুযায়ী বৈধ নয় জানতে পেরে ভুক্তভোগীর বড় ভাই বাদী হয়ে শনিবার রাতে বড়াইগ্রাম থানায় বাবা-ছেলেকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনা প্রসঙ্গে বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্ত বাবা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করে সোমবার দুপুরে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে।