নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় মাদক ও জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা। তাদের অভিযোগ, উপজেলায় একাধিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মাদক সরবরাহ ও জুয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের আরও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল এবং দেশীয় মদ (চুয়ানি) সহজেই পাওয়া যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমেও মাদক সরবরাহ করা হয়। মাদক কেনাবেচায় বিভিন্ন সাংকেতিক শব্দ ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, মাদক সরবরাহে কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্রের সদস্যদের কেউ কেউ অতীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় সিন্ডিকেটগুলোর মধ্যে বিরোধও দেখা দেয়। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ও দালালচক্রের প্রশ্রয়ে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, কিশোর গ্যাংয়ের কিছু সদস্য এবং অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমেও মাদক সরবরাহের ঘটনা ঘটছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক জিয়াউল হক, নলডাঙ্গা বিএনপির নেতা এস. এম. সান্টু এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক উজ্জ্বল হোসেন বলেন, মাদক ব্যবসার কারণে শিশু-কিশোররা বিপথগামী হচ্ছে। অনেক পরিবারে অশান্তি বাড়ছে। দ্রুত মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-নলডাঙ্গা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

