২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘জুলাই পদযাত্রা’র ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামীকাল সোমবার (৬ জুলাই) থেকে দেশব্যাপী এ কর্মসূচি শুরু করবে দলটি।
শনিবার (৫ জুলাই) বিকেলে ‘গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষা’র দাবিতে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের ৬৪ জেলার ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় পদযাত্রার ঘোষণা দেন এনসিপির (উত্তরাঞ্চল) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
তবে ঘোষিত পদযাত্রার পথনকশায় ছয় জেলার নাম নেই। জেলাগুলো হলো—গোপালগঞ্জ, নরসিংদী, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, সুনামগঞ্জ ও রাঙামাটি।
সংবাদ সম্মেলনে সারজিস আলম বলেন, ‘এনসিপির আত্মপ্রকাশের পর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দেশের ৬৪টি জেলা শহরকে কেন্দ্র করে আমরা জুলাই পদযাত্রা করেছি। এবারও এনসিপি জুলাই পদযাত্রার আয়োজন করছে। এই পদযাত্রা দেশের ৬৪ জেলাকে স্পর্শ করবে।’
তবে সংবাদ সম্মেলনের প্রায় এক ঘণ্টা পর প্রকাশিত সংশোধিত পথনকশায় ওই ছয় জেলার নাম আর দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ মাহদী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এবারের পদযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য হলো, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেসব উপজেলায় আমরা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দিয়েছি, তাদের কার্যক্রমকে সামনে আনা। সে কারণে সেসব উপজেলায় জুলাই পদযাত্রার কর্মসূচি রাখা হয়েছে। জুলাই মাসে আমাদের আরও কর্মসূচি রয়েছে। সব কর্মসূচি নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের স্বার্থে সব উপজেলায় পদযাত্রার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।’
গত বছর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তিতে গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা ও পথসভাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে চারজন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হন।
গোপালগঞ্জে এবার কর্মসূচি না রাখার কারণ জানতে চাইলে আশরাফ মাহদী বলেন, ‘গোপালগঞ্জে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা কোনো প্রার্থী দিইনি। প্রার্থী দিলে সেখানে সফর করব। এবার সেখানে কর্মসূচি না দেওয়ার সঙ্গে গত বছরের সংঘর্ষের কোনো সম্পর্ক নেই। গত বছর ফ্যাসিবাদের দোসররা যেভাবে সক্রিয় ছিল, এখন তারা সেভাবে সক্রিয় আছে বলে আমরা মনে করি না।’

