নেত্রকোনার পূর্বধলায় দাফনের তিন মাস পর সিয়াম (১৩) নামে এক কিশোরের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে আদালতের নির্দেশে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ আহমদের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। সিয়াম পূর্বধলা উপজেলার ছোছাউড়া গ্রামের মনজুল হকের ছেলে।
এ সময় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আরাফাত খান ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পূর্বধলা থানার এসআই ফারুক খানের নেতৃত্বে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৬ অক্টোবর সিয়ামকে (১৩) অপহরণ করে হবিগঞ্জের মাধবপুরের একটি গার্মেন্টসে নিয়ে যায় প্রতিবেশী নূর হোসেন ও উজ্জ্বল মিয়া। সেখানে থাকাকালে সিয়াম তার বাবাকে ফোনে জানিয়েছিল, আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। একপর্যায়ে সিয়াম বাড়িতে পালিয়ে এলেও গত বছরের ৪ নভেম্বর তাকে পুনরায় কৌশলে হবিগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ওইদিন সন্ধ্যায় কারখানার এক প্রকৌশলী সিয়ামের বাবাকে ফোন করে জানান, সিয়াম বিদ্যুৎস্পর্শে মারা গেছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সিয়ামের মরদেহ বাড়িতে আনার পর স্থানীয় কয়েকজন অসাধু রাজনৈতিক নেতা ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। ময়নাতদন্ত ছাড়াই সিয়ামকে দাফন করা হয়। পরে নিহতের বাবা মাধবপুর গিয়ে জানতে পারেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং আসামিরা সিয়ামকে হত্যার কথা স্বীকার করে তাকে হুমকিও দেয়।
এ ঘটনায় গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা মনজুল হক। পরে আদালত মামলাটি গ্রহণ করে মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেন।
পূর্বধলা থানার এসআই ফারুক খান (তদন্ত কর্মকর্তা) জানান, আদালতের নির্দেশে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানার স্বার্থে মরদেহ উত্তোলন করে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


