ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

পণ্য পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ি, সচ্ছলতা বহু পরিবারে

সাখাওয়াত হোসেন, ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
ঘোড়ার গাড়িতে পণ্য পরিবহন করছে স্থানীয়রা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

এক সময় গ্রামবাংলার পথে-প্রান্তরে ছুটে চলা ঘোড়ার গাড়ি আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যান্ত্রিক বাহনের দৌরাত্ম্যে উপজেলার অধিকাংশ রাস্তাঘাটে কৃষিপণ্য পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ির ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফসল ঘরে তোলা থেকে শুরু করে বাজারে নেওয়া সবই করা হচ্ছে এই গাড়িতে। অন্যদিকে ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে আর্থিকভাবে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে বহু পরিবারে।

স্থানীয়রা জানান, এক সময় গ্রামবাংলার মানুষের নির্ভরযোগ্য বাহন ছিল ঘোড়ার গাড়ি। কৃষিজমির কাদা পানি থেকে যান্ত্রিক কোনো বাহনে কৃষিপণ্য বহন করা কঠিন। আনলেও পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। ফলে আগে কৃষকরা মাথায় কিংবা কাঁধে করে মাঠ থেকে ফসল আনতেন।

ঘোড়ার শক্তি বেশি থাকায় এখন অনায়াসেই এসব স্থান থেকে ঘোড়ার গাড়িতে উৎপাদিত ফসল বহন করতে পারছেন কৃষকরা। ফলে এলাকায় এই বাহনের চাহিদা বেড়েছে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলার পাঁচ বেতুয়ান, পাটুল, মাগুরা, নৌবাড়ীয়া, গোবিন্দপুর, দিলপাশার, কৈডাঙ্গা, শরৎনগরসহ আশপাশের এলাকায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন ঘোড়ার গাড়ি ভাড়ায় চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

ঘোড়ার গাড়িচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা সাধারণত অল্প টাকায় কেনা মাইক্রোবাসের পুরোনো চাকা দিয়ে ঘোড়ার গাড়ি তৈরি করেন। প্রতিটি গাড়ি তৈরি করতে খরচ পড়ে ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা। আর ঘোড়া কিনতে লাগে আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। গাড়ি চালিয়ে দিনে আয় হয় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা।

এই আয় দিয়ে তারা পরিবারের ভরণপোষণসহ সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ বহন করছেন। যেখানে অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না, সেখানেই তারা মালামাল পরিবহন করে থাকেন। বর্তমানে উপজেলার অনেকেই পেশা পরিবর্তন করে ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের পাঁচ বেতুয়ান গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমাদের জমির ফসল ও বাড়ির লোকজনের যাতায়াতের জন্য প্রায় সারা দিনই গাড়ি লাগে। কাজ না থাকলে ভাড়ার বিনিময়ে গাড়ি চালাই। তখন বাজারে মালপত্র বা মানুষ পৌঁছে দিই। এতে ভালোই রোজগার হয়।

তিনি জানান, চার বছর আগে ২৫ হাজার টাকায় ঘোড়াসহ একটি ঘোড়ার গাড়ি কিনে ভাড়ায় কৃষিপণ্য বহনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন। ঘোড়ার খাবার ছাড়া বাড়তি কোনো খরচ না থাকায় অনেকেই এখন এই পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে চলনবিল সাহিত্য সংসদের সভাপতি কবি নুরুজ্জামান সবুজ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামীণ জীবনের বহু ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে। এক সময় গ্রামবাংলার পথে-প্রান্তরে ছুটে চলা ঘোড়ার গাড়ি ছিল যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম মাধ্যম। ঘোড়ার গাড়ি আমাদের দেশীয় ঐতিহ্য।

প্রয়োজনের তাগিদেই হারিয়ে যেতে বসা এই বাহনের ব্যবহার আবারও শুরু হয়েছে। বর্তমানে কৃষকরা নিয়মিত ঘোড়ার গাড়িতে মালামাল পরিবহন করছেন। অনেকের জন্য এটি জীবিকার উৎস হয়ে উঠেছে। যান্ত্রিক যুগে এ ধরনের যানবাহনের ব্যবহার কম হলেও পরিবেশ ও শব্দদূষণ রোধে ঘোড়ার গাড়ি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।