পবিত্র রমজান মাসের একমাস বাকি থাকতেই পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় হঠাৎ করেই চালের দাম বেড়ে গেছে। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি চালের দাম ২ থেকে ৩ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
নতুন বছরের শেষের দিকে এ ঊর্ধ্বগতি সাধারণ পরিবারের জন্য দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে ভাঙ্গুড়া উপজেলার শরৎনগর ও ভাঙ্গুড়া বাজার ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে চালের দামের এ ঊর্ধ্বগতির চিত্র উঠে এসেছে।
বাজারে কাটারি চাল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, বাসমতি চাল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা এবং ২৯ চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চালের দাম বাড়ায় অস্বস্তিতে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের পরিবারগুলো।
বাজারে বেশ কিছুদিন ধরে আমন মৌসুমের চাল আসতে শুরু করেছে। এমন সময় পুরোনো বিভিন্ন ধরনের চালের দাম কেজি প্রতি ২ থেকে ৩ টাকা বৃদ্ধি পায়। চালের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিক কারণ খুচরা বিক্রেতারা জানাতে পারছেন না।
আর মাত্র একমাস পর পবিত্র রমজান মাস আসতে যাচ্ছে। প্রতি বছর রমজানের আগে নিত্যপণ্যের বাজারে দাম সহনীয় রাখতে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে বাস্তবে তার যথাযথ প্রতিফলন দেখা যায় না। এবারের রমজানেও নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে থাকার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
ভাঙ্গুড়া উপজেলার শরৎনগর বাজারে চাল কিনতে আসা ভ্যানচালক রজব আলী বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় কেজি প্রতি ২ থেকে ৩ টাকা বেশি দরে চাল কিনতে হলো। অন্য জিনিসের দামই বেশি, তার ওপর চালের দাম বেড়ে গেছে। এভাবে চালের দাম বাড়তে থাকলে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে। আমরা চাই নিয়মিত বাজার মনিটরিং হোক।’
ভাঙ্গুড়া উপজেলার চাল বিক্রেতারা ইয়াসিন জানান, বাজারে কিছু চালের দাম কেজি প্রতি ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। নতুন মৌসুমে আউশ, আমন ও নাজিরশাই চাল বাজারে আসতে শুরু করলেও সরবরাহ বাড়ার আগেই পুরোনো চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, এতে সাধারণ গ্রাহকরা বিরক্ত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পাবনা জেলা সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি রূপালী বাংলাদেশকে জানান, ‘আমরা নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ করছি। কেউ যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে। অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


