পবিত্র ঈদুল আজহা যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে কোরবানির প্রস্তুতি। আর সেই প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে পশু জবাই ও গোশত প্রস্তুতের সরঞ্জাম তৈরির কাজ। মুসলমানদের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার কামার ও শ্রমিকেরা। ঈদের আগে শেষ মুহূর্তের এই ব্যস্ততায় দম ফেলারও ফুরসত নেই কামার শিল্পীদের।
একদিকে কোরবানির পশু কেনায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্বচ্ছল পরিবারগুলো, অন্যদিকে প্রায় কয়েকগুণ বেশি সমানুপাতিক হারেই দা, বটি, ছুরি কিংবা কোরবানি পশু কাবু করার অস্ত্র তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে কামাররা। ভাঙ্গুড়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন বাজারে এখন কোরবানির সরঞ্জামের জমজমাট বেচাকেনা চলছে।
সরেজমিনে ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কামার শিল্পীদের দোকান ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি দোকানে কয়লা দিয়ে জ্বালানো চুলার আগুনে লোহা গরম করে পিটিয়ে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরি করছেন কামাররা। কেউ হাঁপর টানছেন, সেই হাঁপরে পুড়ছেন কয়লা, জ্বলছে লোহা। কেউ কেউ হাতুড়ি পিটিয়ে তৈরি করছেন দা, বটি, ছুরিসহ মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম। তবে নতুন তৈরির থেকে পুরাতন যন্ত্রপাতি মেরামতের কাজই বেশি। পশু জবাইয়ের সরঞ্জামাদি কিনতেও লোকজন ভিড় করছেন তাদের দোকানে।
আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার এবং বাজারে তৈরি পণ্যের সহজলভ্যতার কারণে ঐতিহ্যবাহী কামার শিল্প আগের মতো জমজমাট নেই বলে জানান উপজেলার অনেক কারিগর। তারপরও কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েকদিনের এই ব্যস্ততাই তাদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে। পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ১০০ থেকে ২০০ টাকা, দা ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বটি ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকা, চাপাতি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান কারিগররা।
কোরবানি উপলক্ষ্যে ভাঙ্গুড়া পৌরসভার চৌবাড়ীয়া মাষ্টার পাড়া এলাকা থেকে পুরাতন দা মেরামত আসা আলহাজ্ব শেখ আব্দুস সামাদ বলেন, সারা বছর সংসারে দা ব্যবহার হলেও ছুরি ও চাপাতিগুলো কুরবানির পর অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকে। দীর্ঘদিন সেগুলো ব্যবহার না করায় মরিচায় জং ধরে থাকে। তাই কোরবানি আসলেই দা, ছুরি ও চাপাতির শান দিতে নিয়ে আসি।
ভাঙ্গুড়া উপজেলার কামার শিল্পীরা রুপালী বাংলাদেশকে জানান, বছরের অধিকাংশ সময় তাদের তেমন কাজ থাকে না।বর্তমান সময়ে হার্ডওয়্যারের দোকানগুলোতে তৈরি সরঞ্জাম সহজেই পাওয়া যায়। ফলে আগের মতো সরাসরি অর্ডার কমে গেছে। তারপরও কোরবানির সরঞ্জামের অর্ডার এখন পুরোদমে চলছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঐতিহ্যবাহী কামারশিল্প শুধু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি গ্রামীণ অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়লেও ঈদুল আজহার মৌসুমে দেশীয় কামারশিল্পের চাহিদা এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে টিকে আছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন