ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সেতু ভেঙে পড়ে আছে খালে, নৌকায় রশি টেনে পারাপার

কুয়াকাটা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ১৩, ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
সেতু ভেঙে পড়ে আছে খালে। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি আয়রণ সেতু ভেঙে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ১০ গ্রামের বাসিন্দা। ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর এখন মাঝি বিহীন একটি ডিঙ্গি নৌকায় রশি টেনে পারাপার হচ্ছেন পথচারীরা।

এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে স্কুল-মাদ্রসার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। ভেঙে যাওয়ার ১০ মাস অতিবাহিত হলেও ব্রিজের ভাঙা অংশ অপসারণ কিংবা নতুন সেতু নির্মাণ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। 

জানা গেছে, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নের তাহেরপুর ও আজিমপুর গ্রামের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত লক্ষ্মীর খালের ওপর ২০০১ সালে নির্মাণ করা হয় আয়রণ সেতু। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকার পর ২০২৫ সালের ২০ মে সকালে বিকট শব্দে ধ্বসে পড়ে সেতুটি। 

সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর ১০ গ্রামের বাসিন্দার একমাত্র ভরসা এখন একটি ছোট ডিঙ্গি নৌকা। নৌকার দুই পাশে বাঁধা রশি টেনে নিজেরাই পারাপার হচ্ছেন পথচারীরা। এই ডিঙ্গি নৌকায় রাখা হয়েছে ব্রিজঘাট জামে মসজিদের একটি দান বাক্স। পারাপারের সময় কেউ খুশি হয়ে টাকা দিলে তা জমা হচ্ছে মসজিদের তহবিলে। ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হচ্ছেন স্কুল-মাদ্রাসা-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে ও ব্যবসায়ীরা। 

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা না হলে যাতায়াত ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি থেকেই যাবে। গ্রামের মানুষের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি সচল রাখতে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক হাওলাদার বলেন, ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার পর খুব কষ্টে আছি। শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হয়।

ব্রিজঘাটের জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ রুহুল আমিন বলেন, মানুষের ভোগান্তি দেখে মসজিদ কমিটি একটি ডিঙ্গি নৌকার ব্যবস্থা করেছেন। এখন পথচারীরা এই নৌকা দিয়ে পারাপার হয়। নৌকায় একটি দান বাক্স রাখা আছে। প্রতি সপ্তাহে ৪০০-৫০০ টাকা দানবাক্স খুলে পাওয়া যায়।

লতাচাপলী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত নতুন সেতু হবে।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ভেঙে পড়ার পর নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই নতুন সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হবে।