ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

রাজবাড়ীর বাসডুবিতে ২৭ নিহতের মধ্যে শিক্ষার্থী ৬

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ২৬, ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীবাহী একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্তত ৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন, যা এই দুর্ঘটনাকে আরও শোকাবহ করে তুলেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস কুমার পাল জানিয়েছেন, নিহত ২৭ জনের মধ্যে ১১ জন নারী, ৮ জন শিশু এবং ৬ জন পুরুষের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষে ধীরে ধীরে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হচ্ছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী জোহরা অন্তি এবং তার স্বামী সৌম্য। এ ছাড়া বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) শিক্ষার্থী সাইফ আহমেদ ও তার স্ত্রী।

এ ছাড়া সিআরপির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিএইচপিআই-এর ফিজিওথেরাপি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সোমা (অকুপেশনাল থেরাপি, ১৭তম ব্যাচ) ও তাদের সাত মাস বয়সি সন্তানও নিহতদের তালিকায় রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার আগে নুরুজ্জামান বাস থেকে নেমে যান, আর তখনই চোখের সামনে তার স্ত্রী ও সন্তানসহ বাসটি নদীতে তলিয়ে যায়।

অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর বৃহস্পতিবার সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিদ খান রাইয়ান এবং তার ভাগনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। এর আগে বুধবার তার মায়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং তার বড় বোনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা বাসটি দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ঘাটের পন্টুনে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে মাত্র সাতজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।