রাজশাহীতে চাঁদা না পেয়ে এক কলেজশিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে দুই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক আসাদুজ্জামান জুয়েল মামলা দায়ের করলে পুলিশ শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে দুই ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে।
শনিবার (৭ মার্চ) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, শাহ মখদুম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মারুফ শিহাব এবং রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান চন্দন।
এ দুই ছাত্রদল নেতাকে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বোয়ালিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান।
গত ৫ মার্চ থানায় দায়ের করা এজাহারে শিক্ষক আসাদুজ্জামান জুয়েল উল্লেখ করেন, গত তিন মাস ধরে ছাত্রদল নেতা শিহাব ও চন্দন তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছেন। তাদের দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় গত বছরের ২৬ নভেম্বর চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। সর্বশেষ গত ৪ মার্চ বুধবার রাত ১০টার দিকে তার কাদিরগঞ্জ এলাকার বাসার নিচে তাকে একা পেয়ে মারধর করেন এবং আবারও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এদিকে শুক্রবার রাত ১০টায় গ্রেপ্তারের আগে মহানগরীর নিউমার্কেট এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন ছাত্রদল নেতা শিহাব ও চন্দন। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, শিক্ষক আসাদুজ্জামান জুয়েল আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং বিভিন্নভাবে দলটির পক্ষে কাজ করেন। ওই শিক্ষক নিয়মিতভাবে কলেজে দায়িত্ব পালন করেন না এবং শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেন।
তারা আরও বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ও শিক্ষক জুয়েল আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেছেন। এ ছাড়া গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মহানগরীর কুমারপাড়ায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলীয় ব্যানার টাঙানোর ঘটনার সঙ্গেও শিক্ষক জুয়েলের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় তিনি তাদের বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও তাকে মারধরের অভিযোগ করেছেন বলেও তারা দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কলেজশিক্ষক জুয়েল বলেন, ‘তাদের অসংখ্য ভয়েস রেকর্ড আমার কাছে আছে। আমি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিরোধিতা করিনি, বরং সহযোগিতা করেছি। আমি নিয়মিত কলেজে ক্লাস নিই। নিজেদের বাঁচাতে তারা এখন নানা ধরনের কথা বলছেন।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বোয়ালিয়া থানার এসআই মিজানুর রহমান বলেন, ‘মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’



