বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর তানোর উপজেলায় শুরু হয়েছে কৃষকের কষ্টে অর্জিত বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। এবার প্রথম থেকেই আকাশের আবহাওয়া ভালো থাকায় সুষ্ঠুভাবে বোরো ধান বাড়িতে তুলতে পারবেন কৃষকেরা। গত বছরের তুলনায় এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তবে প্রচণ্ড খরতাপের কারণে বোরো ধান কাটায় শ্রমিক সংকটের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
কৃষকরা বলছেন, বর্তমানে পুরো উপজেলা জুড়ে বোরো ধান প্রায় পেকে গেছে। কিছু কিছু পাকা ধান কাটা শুরু হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যে পুরো মাঠজুড়ে ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হবে। এতে করে কৃষকদের মাঝে শ্রমিক সংকট নিয়ে নতুন করে হতাশা দেখা দিয়েছে। প্রতিবার বোরো ধান কাটা শুরু হওয়ার আগেই বিভিন্ন জেলা থেকে ধান কাটা শ্রমিক এসে পড়ে। কিন্তু ধান পাকা শুরু হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বাইরের শ্রমিক আসতে শুরু করেনি। যার কারণে কৃষকদের মধ্যে ধান কাটার শ্রমিক নিয়ে কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে।
এদিকে বাইরে থেকে শ্রমিক না এলে স্থানীয় শ্রমিকরা শ্রমিক সংকটের অজুহাতে কৃষকদের জিম্মি করে নিজেদের চাহিদামতো মজুরি দাবি করে ধান কাটার কাজ করে। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়ে নিরুপায় হয়ে স্থানীয় শ্রমিকদের দিয়েই ধান কাটাতে হচ্ছে কৃষকদের।
এখন পর্যন্ত আকাশের অবস্থা ভালো রয়েছে। তবে যেকোনো সময় হঠাৎ বৃষ্টি হলে বোরো ধানের জমিতে পানি জমে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকরা সময়মতো পাকা ধান কাটতে না পারলে কষ্টার্জিত ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তানোর পৌর সদরের গুবিরপাড়া গ্রামের কৃষক সাহেব আলী বলেন, ধান খুব ভালো হয়েছে। এবার প্রতি বিঘা জমিতে ৩০ থেকে ৩২ মণ পর্যন্ত ধান হচ্ছে। তবে দাম নিয়ে হতাশ চাষিরা। বাজারে নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা মণ।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, উপজেলা জুড়ে এবার বোরো চাষ হয়েছে ১৪ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে বিলাঞ্চলের জমিতে বোরো চাষ হয়েছে ১ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ জানান, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া কৃষকের অনুকূলে রয়েছে। কোনো দুর্যোগ না হলে অন্য বছরের তুলনায় এবছরও ভালো ফলন পাবেন কৃষকরা।



