চৈত্রের মাঝামাঝি থেকে তীব্র তাপদাহে পুড়ছিল রাজশাহী নগরীসহ বিভিন্ন উপজেলা। দু-একদিন বৃষ্টির দেখা মিললেও তা ছিল খুবই নগণ্য। তবে শুক্রবার (১ মে) রাত সাড়ে ১২টা থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর থেমে থেমে ভোর পর্যন্ত বৃষ্টি হয়। এ সময়ের মধ্যে রাজশাহী আবহাওয়া অফিস ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে, যা এ বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টি। এই বৃষ্টি আমসহ অন্যান্য ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল বলে জানিয়েছেন একাধিক চাষি ও কৃষি বিভাগ। এতে আমের রাজধানী খ্যাত রাজশাহীতে স্বস্তির বৃষ্টিপাত আমের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাজশাহীতে এপ্রিল মাসে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়নি। ৭ এপ্রিল ১ দশমিক ৪ মিলিমিটার এবং গত ২৮ মার্চ ৯ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। এরপর আর তেমন বৃষ্টি হয়নি।
মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে এবং এপ্রিলজুড়ে তা তীব্র আকার ধারণ করে। ২২ এপ্রিল রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এর মধ্যে এপ্রিলের শেষ দিকে দেশের নানা স্থানে বৃষ্টি হলেও রাজশাহীতে কয়েক দিন মেঘ জমে থাকলেও বৃষ্টি হয়নি। উল্টো গরমের তীব্রতা ছিল।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক তারেক আজিজ বলেন, রাজশাহীতে আরও বৃষ্টি হতে পারে। রাতে তেমন ঝড় হয়নি। তবে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস ছিল, বজ্রনিনাদ ছিল। বৃষ্টি হওয়ায় জেলায় তাপমাত্রা কমে এসেছে।
প্রত্যাশিত বৃষ্টিতে জনজীবনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বৃষ্টিতে রাজশাহী নগরের ধুলাবালি মুছে গেছে। গাছগাছালি আরও সবুজ হয়েছে। এ ছাড়া কিছু ফসলের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে এই বৃষ্টি।
পবা উপজেলার পারিলা গ্রামের কৃষক মনির হোসেন বলেন, তার ধান এখনো কাঁচা। ধানের জন্য তিনি সেচ দিচ্ছিলেন। বৃষ্টি হওয়ায় আর সেচের প্রয়োজন নেই। তার বাগানের আমের জন্যও বৃষ্টি প্রয়োজন ছিল।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, শুক্রবার রাতে তেমন ঝড় ছিল না, শিলাবৃষ্টিও হয়নি। এটি আমের জন্য খুবই ভালো হয়েছে। এ ছাড়া পাটের জন্যও বৃষ্টির দরকার ছিল। এই বৃষ্টিতে কৃষকের বেশ উপকার হয়েছে। মাঠে থাকা অন্যান্য ফসলের জন্যও ভালো হয়েছে।



