রাজশাহীর তানোরে আরসিসি রাস্তার সোলিং ঢালাই বৃষ্টির মধ্যে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত সোম ও মঙ্গলবার উপজেলার কলমা ইউনিয়ন ইউপির বিল্লি উত্তর পাড়ার আরসিসি রাস্তার সোলিং ঢালাই দেওয়ার এ ঘটনা ঘটে। শুধু রাস্তা নয়, ড্রেনের ঢালাইও দেওয়া হয়েছে বৃষ্টির পানির মধ্যে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে। এতে করে রাস্তার কাজের মান ও টেকসই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। ফলে বৃষ্টির মধ্যে কাজ বন্ধ রাখার দাবি তুলেছেন জনসাধারণ।
জানা গেছে, গত অর্থবছরে জিওবি মেইন্টেনেন্স প্রকল্পের আওতায় উপজেলার কলমা ইউনিয়ন ইউপির বিল্লি উত্তরপাড়া জামে মসজিদ থেকে সুলতানের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার আরসিসি রাস্তা নির্মাণ ও ৯০ মিটার ড্রেনের দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রে যে ঠিকাদার কাজ পেয়েছেন তিনি কাজ অগ্রিম লাভে বিক্রি করে দেন। সেই কাজ কিনেছেন শহরের প্রভাবশালী ঠিকাদার মামুন। অর্থবছর পার হলেও কাজ শুরু করেননি ঠিকাদার। কিন্তু চলতি অর্থবছরে অফিসের চাপে কাজ শুরু করতে বাধ্য হয় ঠিকাদার মামুন। বৃষ্টির পানির মধ্যেই আরসিসি রাস্তার কাজ শুরু করেন ঠিকাদার।
স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টির মধ্যেই রাস্তার কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও ঠিকাদার। আরসিসি রাস্তার সোলিং ঢালাই দেওয়া হয়েছে গত সোমবার। দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে ঢালাই দেওয়া হয়েছে। কাজের বিষয়ে কোনো কথা বলা হবে না। এমনকি কারো কথায় কর্নপাত করছেন না তারা। সোলিং ঢালাই দেওয়ার পর রড বিছাচ্ছে। রড বিছানোর পর দেওয়া হবে আরসিসি ঢালাই। ঢালাইয়ে পর্যাপ্ত নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, এলজিইডি থেকে মামুন নামের এক ব্যক্তি রাস্তার কাজ করছেন। ২০০ মিটার আরসিসি রাস্তা ও ৯০ মিটার ড্রেন নির্মাণের জন্য প্রায় ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহারের কাছে কাজ ও বৃষ্টির মধ্যে ঢালাইয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি গত সোমবার শহরে ছিলাম। শহরে যখন বৃষ্টি হয় অফিসের এসও রিপনকে বলি বৃষ্টি হলে ঢালাই বন্ধ রাখতে। সে আমাকে বলে বৃষ্টি হয়নি, বলে দায় সারেন তিনি।
এসও রিপন জানান, যখন ঢালাই হয় তখন বৃষ্টি হয়নি। এ জন্য ঢালাই দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার তো দিনভর বৃষ্টি হয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান ওই দিকে বৃষ্টি ছিল না। কোন অর্থবছরের কাজ আর কোন ঠিকাদার পেয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান, গত অর্থবছরের কাজ, মামুন নামের ঠিকাদার কাজ করছেন। তিনি কি দরপত্র পেয়েছেন নাকি কিনে করছেন, বরাদ্দ কত প্রশ্ন করা হলে উত্তরে তিনি জানান অফিসের ফাইল দেখতে হবে ও ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকার মতো বরাদ্দ হতে পারে। এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদার মামুনকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

