রাঙামাটির ফুরমোন পাহাড়ে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দ্বারা পর্যটকদের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনতাই, হেনস্তা ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি), রাঙামাটি জেলা শাখা।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাঙামাটি শহরের কাঠালতলী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে জুমার নামাজের পর একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বনরূপা চত্বরে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
এর আগে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ফুরমোন পাহাড়ে পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন। এতে বক্তব্য রাখেন: পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য (পর্যটনবিষয়ক আহ্বায়ক) মো. হাবীব আজম, সহসভাপতি কাজী জালোয়া, যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. নূর হোসেন, রাঙামাটি অটোরিকশা চালক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু, রাঙামাটি ফার্নিচার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল শুক্কুর, হিল সার্ভিস রাঙামাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাসুদ রানা, অ্যাসোসিয়েশন অব হিল ট্যুরিস্ট গাইডসের রাঙামাটি সভাপতি সোহেল রানা, রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নেতা রাকিব, পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আরিয়ান রিয়াজ ও মো. রনি, পৌর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম বাবুসহ আরও অনেকে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা পর্যটকরা প্রতিনিয়ত ইউপিডিএফের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের হাতে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অপহরণের মতো ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে পর্যটকদের স্বপ্নের এই গন্তব্য এখন আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, ফুরমোন পাহাড়কে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অবৈধভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করছে। পাহাড়ে ভ্রমণে আসা সাধারণ পর্যটকদের গতিরোধ করে তল্লাশি চালানো, মোবাইল ফোন ছিনতাই, মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং নারী পর্যটকদের সঙ্গে অশোভন আচরণের মতো ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভয়ে পর্যটকরা মুখ না খুললেও জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
ভুক্তভোগী সুমন তার বক্তব্যে বলেন, ফুরমোন পাহাড় থেকে পুরো রাঙামাটি শহর এক নজরে দেখা যায়। এমন সম্ভাবনাময় একটি পর্যটন এলাকায় দিনের আলোতে অস্ত্রধারীদের অবাধ বিচরণ জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উদীয়মান পর্যটন শিল্পকে রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলার সব পর্যটন কেন্দ্রকে সন্ত্রাসমুক্ত করার দাবি জানান তারা।
পিসিসিপির নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নির্মূলে নিয়মিত ও বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা না হলে এই অঞ্চলের পর্যটন খাত ধসে পড়বে এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে পাহাড়ের অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।




