রংপুরে ‘ডিশ-ইন্টারনেট’ ব্যবসা দখলকে কেন্দ্র করে বেডরুমে গিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ গুলি করে হত্যার হুমকির ঘটনায় জামিন পেয়েছেন বহিষ্কৃত যুবদল নেতা তামজিদুর রশিদ গালিব এবং জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিথুন। গ্রেপ্তারের ১৬ ঘণ্টার মাথায় জামিন পাওয়ায় রংপুরের সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. রাশেদ হোসাইন জামিন মঞ্জুর করেন। পাঁচ শ টাকা বন্ডে পিআর পর্যন্ত এ জামিন দেওয়া হয়।
এর আগে সোমবার রাতে ‘মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড’ নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং মোবাইল ফোনে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার স্ত্রী-সন্তানকে বেডরুমে গিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর র্যাব-১৩ ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বহিষ্কৃত যুবদল নেতা তামজিদুর রশিদ গালিব এবং জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিথুনকে গ্রেপ্তার করে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, নগরীর কামাল কাছনা এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসীরা প্রতিষ্ঠানের সংযোগ লাইন কেটে দেয়। এতে গ্রাহকেরা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েন। এ ঘটনায় মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ডের পপ ম্যানেজার রেবেকা হারুন সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
গত রোববার সন্ধ্যায় গালিব ও মনুসহ আনুমানিক ১৫-২০ জন প্রতিষ্ঠানের অফিসে ঢুকে স্টাফদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তামজিদুর রশিদ গালিবের নির্দেশে অন্য আসামিরা মারধর এবং অফিসের ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। একই সঙ্গে কামাল কাছনা এলাকায় গালিবকে নতুন ফিড অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দিতে চাপ দেওয়া হয়। এ সময় আকিবুল রহমান মনু প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মাহাদী হাসান কাফিকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তুই আওয়ামী লীগের দালালি করছিস। আজকে বিকেলের মধ্যে যদি সমাধান না করিস, তাহলে তোর বেডরুমে গিয়ে বউ-বাচ্চাসহ তোকে গুলি করে আসব।’
পরে ইন্টারনেট অফিসে ঢুকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর, ভাঙচুর এবং বাসায় গিয়ে হত্যার হুমকির অভিযোগে রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর মহানগর কোতোয়ালি থানায় ‘ক্যাবল ওয়ান’ ও ‘মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড’ পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে। মামলায় জেলা যুবদলের সদ্য বহিষ্কৃত সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিব এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনুসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়।
এদিকে, অভিযুক্ত দুই নেতাকে গত রোববার রাতেই বহিষ্কার করেছে যুবদল। সংগঠনটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি-আদর্শ ও সংহতির পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন