ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সাতক্ষীরায় গ্রামীণ ঐতিহ্য হারাচ্ছে খেজুরের রস-গুড়

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০১:৪১ পিএম
সাতক্ষীরার একজন গাছি খেজুরের রস সংগ্রহ করছেন। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

সাতক্ষীরায় আবহাওয়ার পরিবর্তন ও গাছির অভাবে খেজুরের রস সংগ্রহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে খেজুরের গুড়, পাটালি ও রসের পিঠা তৈরির ঐতিহ্যপূর্ণ শিল্পে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় গুড় উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।

জানা গেছে, শীতের মৌসুমে গ্রামাঞ্চলের ঘরে ঘরে খেজুর রস সংগ্রহ করা হয় এবং সেই রস থেকে তৈরি হয় নানা ধরনের পিঠা ও পায়েস। এ সময় গাছিরা ব্যস্ত থাকেন রস সংগ্রহে। তবে এবার বিরূপ আবহাওয়া ও শ্রমিকের অভাবে রস সংগ্রহ ব্যাহত হওয়ায় হারাতে বসেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ২৩০ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৮ হাজারের বেশি খেজুর গাছ রয়েছে। নিয়মিত রস সংগ্রহ করা গেলে বছরে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টন গুড় উৎপাদন সম্ভব হতো। তবে অধিকাংশ গাছ না কাটার কারণে বাস্তবে উৎপাদন কমে মাত্র ৮০০-৯০০ টনে নেমেছে, অর্থাৎ উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে কমেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত রস সংগ্রহ করা গেলে জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলাতেও গুড় সরবরাহ করা সম্ভব হতো। এতে কৃষকদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটত। কিন্তু বর্তমানে আবহাওয়ার পরিবর্তন ও সময়মতো গাছ না কাটার কারণে অনেক কৃষক আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে খেজুর রস ও গুড় উৎপাদন দিন দিন কমছে।