ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জাতীয়তাবাদী ক্রীড়াদলের নবগঠিত কমিটি প্রত্যাখ্যান, ১২ নেতার পদত্যাগ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্রীড়াদল সাতক্ষীরা জেলার নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে বিগত আওয়ামী সরকারের সুবিধাভোগী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদে একযোগে পদত্যাগ করেছেন ক্রীড়াদলের ১২ জন শীর্ষ নেতা ও সংগঠক।

কেন্দ্রীয় সদস্যসহ স্থানীয় ত্যাগী খেলোয়াড় ও সংগঠকদের মতামত উপেক্ষা করে এই কমিটি গঠন করায় তারা এ চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

পদত্যাগকারী নেতাদের দাবি, জাতীয়তাবাদী ক্রীড়াদলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নিয়াজ মোর্শেদ এবং সদস্য সচিব মো. জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর স্বাক্ষরিত সাতক্ষীরা জেলার এই নতুন কমিটিতে প্রকৃত মাঠপর্যায়ের খেলোয়াড় ও যোগ্য সংগঠকদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।

বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্রীড়াদলের কেন্দ্রীয় সদস্য মো. হুমায়ুন কবির ডাবলুসহ খুলনার কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের কোনো পরামর্শ নেওয়া হয়নি। পরিবর্তে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে সুবিধাভোগী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে।

স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে পদত্যাগকারী নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন মো. অহিদুজ্জামান আকাম্য, ইকবাল কবির খান, মো. মাসুদ, তাপস কুমার সরকার, মো. আরিফুল ইসলাম রিপন, মো. মহাসিন, জি. এম মাহমুদুল হক লালটু, মো. হযরত আলী, মো. শামীম হাসান সাঈদ, সুকুমার দাশ বাচ্চু, মো. শরিফুল ইসলাম, মো. অজিয়ার রহমান ও মো. সাইফ হাসান মুকুল।

পদত্যাগকারী নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দলের দুর্দিনে রাজপথে থেকে ক্রীড়াঙ্গনকে সুসংগঠিত করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত সৈনিকদের বাদ দিয়ে সুবিধাভোগীদের দিয়ে পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এমন বিতর্কিত কমিটির সঙ্গে কাজ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আমরা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারা অবিলম্বে এই ‘অগণতান্ত্রিক’ কমিটি বাতিল করে ত্যাগী ও রাজপথের লড়াকু সৈনিকদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠনের জন্য দেশনায়ক তারেক রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে কেন্দ্রীয় কমিটি গোলাম ফারুক বাবুকে আহ্বায়ক এবং মীর তাজুল ইসলাম রিপনকে সদস্য সচিব করে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি প্রকাশের পর থেকেই কমিটি নিয়ে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির তৃণমূল নেতাদের মাঝে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, যারা বিগত দিনে আওয়ামী লীগ থেকে সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, তারাই এখন সাতক্ষীরায় সব কমিটির নেতা।

অন্যদিকে ‘বিএনপি নেটওয়ার্ক সাতক্ষীরা’ আইডি থেকে ফেসবুকে বিতর্কিত ব্যক্তিদের ছবি পোস্ট করে প্রশ্ন তোলা হয় ‘এই যদি হয় নেতৃত্ব, তাহলে ত্যাগীরা যাবে কোথায়?’