ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

​জামায়াতের সাবেক এমপি গাজী নজরুলকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিক্ষোভ মিছিলে ঝাড়ু-জুতা প্রদর্শন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে সচেতন নাগরিক সমাজ। এক অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে তাকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কার এবং গ্রেপ্তারেরও দাবি জানানো হয়েছে।

​বুধবার (২২ জুলাই) বেলা ১১টায় শ্যামনগরের ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

​এর আগে শ্যামনগর পৌর সদরের জেসি কমপ্লেক্স চত্বর থেকে শত শত নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি পৌর সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ অংশগ্রহণকারীদের হাতে ঝাড়ু ও জুতা দেখা যায় এবং তারা গাজী নজরুল ইসলামের ছবিতে আঘাত করে প্রতিবাদ জানান।

​মিছিল শেষে উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ সুলাইমান কবির।

​সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গত ১৩ জুলাই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি ঘটলেও গাজী নজরুল ইসলাম কৌশলে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তার গাড়িচালক কাঙ্ক্ষিত টাকা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে দিলে তা ভাইরাল হয়। ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে ভিডিওটি এআই (AI) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বলে দাবি করা হলেও, পরবর্তীতে ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠানের অনুসন্ধানে ভিডিও চিত্রটির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়। সত্যতা প্রকাশের পর গাজী নজরুল ও তার সহযোগীরা বিষয়টি ঢাকতে ওই তরুণীকে নিয়ে ‘বিয়ের নাটক’ সাজান।

​বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, গত ১৭ জুন বিয়ের কথা বলা হলেও ২১ জুলাই বিকেলে কাবিন সম্পন্ন করার যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট জালিয়াতি ও মিথ্যাচারকে প্রমাণ করে। একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা আইনত ধর্ষণের সামিল। একজন প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের এ ধরনের অপকর্ম জাতীয় সংসদের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।

​বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে শরীয়ত মোতাবেক পরিচালিত দাবি করা সংগঠন 'বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী'কে তাদের নীতি ও আদর্শ স্পষ্ট করার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

​প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্না, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আবু সাঈদ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলু, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম এবং উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা প্রমুখ।