ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

নিহত ইবি শিক্ষিকার পরিবারের সহায়তায় শিক্ষকদের একদিনের বেতন কর্তনের উদ্যোগ

ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

চরম আর্থিক সংকটে পতিত হয়েছে নিজ বিভাগের অফিস কক্ষে কর্মচারী ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারানো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার পরিবার। চারটি শিশু সন্তানের লালনপালনে বিপদগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষকদের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন করেছে শিক্ষিকার স্বামী। এরই প্রেক্ষিতে শিক্ষকদের একদিনের বেতন কর্তনের ব্যাপারে সবার মতামত চেয়েছে প্রশাসন।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগের সভাপতি বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে গত ২১ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর আর্থিক সহায়তা চেয়ে লিখিত আবেদন দিয়েছিলেন নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান।

রেজিস্ট্রার প্রেরিত চিঠিতে বলা হয়, সোস্যাল ওয়েলফেয়ার বিভাগের প্রয়াত সহকারী অধ্যাপক ও সভাপতি জনাব আসমা সাদিয়া রুনার স্বামী তার ৪টি সন্তানের লালন-পালনের জন্য আর্থিক সাহায্য চেয়ে জিয়া পরিষদ বরাবর আবেদন করলে শিক্ষকদের বেতন হতে ১ দিনের বেতন কর্তনের বিষয়ে সকল শিক্ষকের সম্মতি নেওয়া প্রয়োজন বলে পরিষদের সভাপতি মন্তব্য করেন। এ বিষয়টি সকল শিক্ষককে অবগত করানোর জন্য আবেদন পত্রটি অত্র সাথে সংযুক্ত করে আপনার বরাবর প্রেরণ করা হলো।

জিয়া পরিষদের নেতৃবৃন্দের প্রতি লেখা আবেদনে শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান লিখেছেন, গত ৪ মার্চ আমার স্ত্রী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সোস্যাল ওয়েলফেয়ার বিভাগে কর্মরত অবস্থায় তার নিজ অফিস কক্ষে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয়। মৃত্যুকালে তিনি ৪ (চার) টি মাসুম সন্তান রেখে গিয়েছেন। দুঃখের সহিত বলতে বাধ্য হচ্ছি প্রকল্পে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে আমি দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ আমার কর্মক্ষেত্র (কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট) থেকে কোন বেতন-ভাতা পাই না। এমতাবস্থায় আমার এই ৪ (চার) টি সন্তান নিয়ে আমি এক গভীর আর্থিক সংকটের মধ্যে গড়েছি। বিষয়টি বিবেচনা করে আমাকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কর্মের সুযোগ ও আপনাদের কিছুটা আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমার এই অতি ছোট ছোট ৩টি কন্যা ও ১টি পুত্র সন্তানকে লালন-পালন করতে আপনার সদয় মর্জি হয়।

ইমতিয়াজ সুলতানের আবেদনের প্রেক্ষিতে জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান  ইতিপূর্বে গণিত বিভাগের সহকর্মী আ. মালেক মুনওয়ার হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে শিক্ষকদের একদিনের বেতন তার পরিবারকে প্রদানের নজীর আছে উল্লেখ করে কারো সম্মতি ব‍্যাতিত তার বেতন কর্তন আইনসম্মত নয় বলে উল্লেখ করেন। বিধায় এ ব্যাপারে বিভাগীয় সভাপতিদের মাধ্যমে শিক্ষকদের সম্মতি-গ্রহনের জন্য সুপারিশ করেন। এরই প্রেক্ষিতেই আজ প্রতিটি বিভাগীয় সভাপতি বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।