নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার করালিয়া এলাকায় প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের একটি সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা পারভেজের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের পর পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিলেও জমি-সংক্রান্ত বিরোধ আদালতের বিষয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের করালিয়া এলাকায় ১৫ শতক জমির মূল মালিক ছিলেন সাজেদা খাতুন। তার দুই ছেলে নুরুল আফছার ও সাইফুজ্জামান। বড় ছেলে নুরুল আফছার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। ২০০৬ সালে তিনি নিখোঁজ (গুমের শিকার) হওয়ার পর তার স্ত্রী ও চার মেয়েকে নিয়ে পরিবারটি চরম সংকটে পড়ে। ছোট ছেলে দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরেন। ওই সময় সাজেদা খাতুন নিজের জমিতে নির্মিত দোকানঘরের ভাড়ার অর্থ দিয়ে বড় ছেলের পরিবারের ভরণ-পোষণ ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ বহন করতেন।
পরিবারের অভিযোগ, প্রভাবশালী কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তিটি দখলের চেষ্টা করে আসছে। তারা সাজেদা খাতুনের স্বাক্ষর জাল করে ১৯৮৯ সালের একটি ভুয়া দলিল তৈরি করে। এ চক্রের মূল হোতা হিসেবে আবু আহমদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাল দলিলের বিষয়টি জানতে পেরে জীবদ্দশায় সাজেদা খাতুন আদালতে ওই দলিলের বিরুদ্ধে পিটিশন দায়ের করেন। লিখিত বক্তব্য ও ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেছিলেন, তিনি কখনো ওই জমি বিক্রি করেননি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সাজেদা খাতুন জীবিত থাকা অবস্থায় জাল দলিলের দাবিদাররা কখনো জমির মালিকানা বা দখল নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে তার মৃত্যুর ১৫ দিন পর আবু আহমদের কাছ থেকে এক লাখ টাকার বায়না দলিলের ভিত্তিতে যুবদল নেতা পারভেজ জমিটির দখল নিতে যান। বর্তমানে জমিটির বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা হওয়ায় এটি দখলের চেষ্টা চলছে বলেও দাবি পরিবারের।
এ ঘটনায় সাজেদা খাতুনের নাতনি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তামান্না পরিবারের পক্ষ থেকে কোম্পানীগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর পুলিশ পারভেজকে থানায় নিয়ে যায়। পরে বিএনপি নেতা সগির ও সাবেক কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলামের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, থানা থেকে বের হওয়ার পরও পারভেজ পুনরায় জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দোকানের ভাড়াটিয়াদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছে ভাড়া দিতে অথবা দোকান ছেড়ে চলে যেতে বলছেন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি জমি ছেড়ে না দিলে পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বর্তমানে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে উল্লেখ করে তাদের জীবন ও সম্পত্তির সুরক্ষায় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত যুবদল নেতা পারভেজ বলেন, আমি আবু আহমদের কাছ থেকে সম্পত্তির বায়না করেছি। সেই বায়না দলিলের ভিত্তিতেই সম্পত্তির দখল বুঝে নিতে গিয়েছিলাম।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাকিম বলেন, হুমকির অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ আদালতের বিষয়।

