আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) রাজশাহী জোনে ৪০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ২০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে শাখা ব্যবস্থাপকদের নিয়ে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) রাজশাহী জোনের শাখা ব্যবস্থাপকদের অংশগ্রহণে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় নগরের নানকিং দরবার হলে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. গোলাম মরতুজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসন ও পরিচালন মহাবিভাগের মহাব্যবস্থাপক তাজ উদ্দীন আহম্মদ এবং রাজশাহী বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী জোনের জোনাল ব্যবস্থাপক মো. মহববত আলী বিশ্বাস।
সভায় জানানো হয়, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজশাহী জোনে ৪০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ, শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ২০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নতুন গ্রাহক বৃদ্ধি, নিয়মিত লেনদেনকারী গ্রাহকের সংখ্যা বাড়ানো, খেলাপি ঋণ কমানো এবং মানসম্মত ঋণ বিতরণে জোর দেওয়া হবে।
এ ছাড়া কৃষি ও উদ্যোক্তা খাতে অর্থায়ন সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে আমদানি-নির্ভর মসলা উৎপাদনে কৃষকদের ৪ শতাংশ সুদে ঋণ প্রদান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ঋণ বৃদ্ধি এবং সৌরবিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস ও কেঁচো কম্পোস্টসহ পরিবেশবান্ধব খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জোনাল ব্যবস্থাপক মো. মহববত আলী বিশ্বাস বলেন, গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে ঋণ আদায় কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে মানসম্মত ঋণ বিতরণের মাধ্যমে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে রাজশাহী জোন।
সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজশাহী জোনে ৩৫৭ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩৬০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। একই সময়ে ১৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা মুনাফা অর্জিত হয়েছে, যা নতুন অর্থবছরে বাড়িয়ে ২০ কোটি টাকায় উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে রাজশাহী জোনের আওতায় ২৬টি শাখা পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৫৮৪ কোটি টাকার আমানত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেড়ে ৭১৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ১০৮ কোটি টাকা থেকে কমে ১০৬ কোটি টাকায় নেমে এসেছে এবং ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫৬৬ কোটি টাকা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. গোলাম মরতুজা বলেন, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে ব্যাংকের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে হবে। এজন্য শাখা ব্যবস্থাপকদের দক্ষতার সঙ্গে নতুন আমানত সংগ্রহ, মানসম্মত ঋণ বিতরণ এবং গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সভা শেষে বিভিন্ন সূচকে কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জনকারী শাখা ব্যবস্থাপকদের সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়।

