সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। এ ঘটনাকে ঘিরে তার দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার ও আলোচিত হচ্ছে।
বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ফেসবুক আইডিতে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেন জারা। পোস্টে দেওয়ার মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যে এতে লাইক পড়ে ৫১ হাজার, কমেন্ট সাড়ে ৪ হাজার ও শেয়ার হয় সাড়ে ৩ হাজার।
সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামের ভাইরাল সেই ভিডিওতে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুলকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। তবে এ বিষয়ে এমপির বক্তব্য, ভিডিওতে থাকা তরুণী তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি দাবি করেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে গত ১৭ জুন ওই তরুণীকে বিয়ে করেছেন।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ওই তরুণীর একটি জীবনবৃত্তান্তও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে সবুজ কালির কলমে ‘জোর সুপারিশ করছি’ লিখে স্বাক্ষর করেছেন গাজী নজরুল ইসলাম। জীবনবৃত্তান্তে স্বাক্ষরের তারিখ উল্লেখ রয়েছে ২২ জুন ২০২৬। একই সঙ্গে ওই তরুণীর বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ লেখা রয়েছে।
এ ঘটনার পর দেওয়া ফেসবুক পোস্টে তাসনিম জারা লেখেন, ‘সংশ্লিষ্ট তরুণীর সিভি অনুযায়ী তার বয়স মাত্র ১৮ বছর। এসএসসি পাসের পরপরই চাকরি খুঁজতে হওয়ায় তার পরিবারের আর্থিক সংকটের বিষয়টি অনুমান করা যায়।’
তাসনিম জারা লিখেছেন, দেশে অনেক ক্ষেত্রে চাকরি পেতে শুধু পরীক্ষা বা মেধা নয়, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশও প্রয়োজন হয়। এমন বাস্তবতায় একসময় ওই তরুণীর সিভি একজন এমপির কাছে পৌঁছায় এবং তাতে সুপারিশ করা হয়।
এরপর তিনি লেখেন, ‘সুপারিশের দাম হিসেবে মেয়েটিকে কী দিতে হয়েছে? হয়তো কিছুই না, হয়তো সবকিছু। আমরা জানি না।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সম্ভাবনা মানেই প্রমাণ নয়।’
পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগ মিথ্যা হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি কলঙ্কমুক্ত হবেন, আর অভিযোগ সত্য হলে সংসদের মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
শুধু এই ঘটনাই নয়, চাকরিতে সুপারিশনির্ভর সংস্কৃতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাসনিম জারা। তিনি লিখেছেন, সরকার ও রাজনৈতিক দল পরিবর্তন হলেও ক্ষমতাবানদের সুপারিশের সংস্কৃতি এখনো বহাল রয়েছে। তার মতে, এই ব্যবস্থাই সাধারণ মানুষকে প্রভাবশালীদের ওপর নির্ভরশীল করে তুলছে এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করছে।
এদিকে গাজী নজরুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী। ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সবশেষ তিনি বলেন, ‘এখানে আরেকটা কথা না বলে পারছি না। এই যে সুপারিশের ব্যবস্থা, ক্ষমতাবানের এক লাইনের সইয়ে চাকরি হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা, এটা কি শুধু এই একটা ঘটনার সমস্যা? প্রতিটা নির্বাচনে প্রতিটা দল আমাদের কথা দেয়, দুর্নীতিমুক্ত দেশ, জিরো টলারেন্স। অথচ সরকার বদলায়, দল বদলায়, সুপারিশের ব্যবস্থাটা বদলায় না। এই একটা জায়গায় সব দল একমত। কেন? যার সই ছাড়া চাকরি হয় না, সেই গরিব মানুষটাকে জিম্মি রাখার জন্যই কি? আজকের গল্পটা দেখিয়ে দিল, এই জিম্মিদশার দাম কোথায় গিয়ে ঠেকতে পারে।’

