ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

দিল্লিতে আন্দোলনের উত্তাপে বিপর্যস্ত জনজীবন, ১৬ মেট্রো স্টেশন বন্ধ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি ঘিরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন এবং জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট।

নিরাপত্তার স্বার্থে দিল্লি মেট্রোরেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে কর্মব্যস্ত দিনের শুরুতেই বিপাকে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, বুধবার (২২ জুলাই) সকালে রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, মান্ডি হাউস, আইটিও ও খান মার্কেটসহ সেন্ট্রাল দিল্লির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে ট্রেনের যাত্রী ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়। যন্তর মন্তরে সিজেপির অবস্থান কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

হঠাৎ করে স্টেশনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় ক্ষোভও বেড়েছে নিত্যযাত্রীদের মধ্যে। সোমবারের পর বুধবারও একই ধরনের বিঘ্নে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

যদিও মেট্রো ট্রেন চলাচল অব্যাহত ছিল, তবে বন্ধ ঘোষিত স্টেশনগুলোতে কোনো ট্রেন থামেনি। ফলে অনেক যাত্রীকে নির্ধারিত গন্তব্যের আগেই নেমে বিকল্প পরিবহনের আশ্রয় নিতে হয়েছে।

সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এলাকার এক যাত্রী বৃন্দা জানান, বন্ধ স্টেশনগুলোর বাইরে বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী অবস্থান করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তার ভাষ্য, কিছু বিক্ষোভকারী স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথের কাছে ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান দিতে থাকলে পরিস্থিতি আরও বিভ্রান্তিকর হয়ে ওঠে এবং অনেকেই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় পড়েন।

ইয়েলো লাইনের আরেক যাত্রী অভিযোগ করেন, ট্রেন চলার মাঝপথে ঘোষণা দিয়ে জানানো হয় যে দিল্লি গেট থেকে খান মার্কেট পর্যন্ত কোনো স্টেশনেই যাত্রীরা নামতে পারবেন না। পূর্বঘোষণা ছাড়া এমন সিদ্ধান্তে যাত্রীদের চরম ভোগান্তির পাশাপাশি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অফিসগামী কর্মী ও পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থীদের অনেকেই বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। বাস, ক্যাব কিংবা অটোরিকশা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে, আর বাসস্ট্যান্ড ও অটোস্ট্যান্ডে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ সারি। নেভিগেশন অ্যাপ ব্যবহার করেও অনেকে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি।

এক কলেজ শিক্ষার্থী জানান, বিশেষ একটি ক্লাসে অংশ নিতে বের হলেও স্টেশন বন্ধ থাকায় তাকে দূরের একটি স্টেশনে নামতে হয়। অতিরিক্ত সময় লাগায় শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ক্লাসে উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে, আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে একযোগে ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন বিরোধী দল কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা প্রমোদ তিওয়ারি। তার অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও জনসমাগমের চাপ সামাল দিতেই সরকার এমন পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি দাবি করেন, এটি গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী এবং সরকারের উদ্বেগেরই বহিঃপ্রকাশ।