সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা নৈতিক স্খলন, দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্য পদ থেকে তার পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে মানববন্ধন, ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টায় পৃথক দুটি কর্মসূচি থেকে তার তাৎক্ষণিক পদত্যাগ এবং সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবি জানানো হয়।
সকালে শ্যামনগর প্রেসক্লাব চত্বরে ‘সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ইতোমধ্যে তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেবল দলীয় বহিষ্কারই যথেষ্ট নয়, সংসদ সদস্য পদ থেকেও তাকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।
মানববন্ধনে আলেমদের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে মুফতি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন অনৈতিক আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। তার এসব কর্মকাণ্ডে শ্যামনগরসহ দেশের আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন মুফতি মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, হাফেজ লাবিব হাসান নাহিদ এবং হাফেজ মনিরুল ইসলামসহ স্থানীয় শীর্ষ আলেম-ওলামারা। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সচেতন নাগরিক সমাজের ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ
অন্যদিকে, প্রায় একই সময়ে শ্যামনগরের কাশীমাড়ী এলাকায় ‘কাশীমাড়ীর সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর উদ্যোগে ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদী ব্যানার, পোস্টার ও ঝাড়ু হাতে সর্বস্তরের নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে নৈতিকতার বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ। এমপির বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগে পুরো এলাকার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ সময় তারা আইন ও বিধি অনুযায়ী অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ছলেমান কবির, শফিকুল ইসলাম দুলু, আজিজুল হক সরদার, বি. এম. আব্দুস সালাম এবং ঢালী আব্দুর রশিদ। প্রতিবাদী নানা স্লোগানের মধ্য দিয়ে কর্মসূচিটি শেষ হয়।


