শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় ছুরিকাঘাতের পর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া ওষুধ ব্যবসায়ী খোকন দাসের সৎকারের জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অনুদান দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টায় তার স্ত্রী সীমা দাসের হাতে এই অনুদান দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন আইয়ূবী।
এ সময় আইয়ূবী বলেন, খোকন চন্দ্র দাসের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব অপরাধীকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে।
এ ছাড়া তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ সার্বিক সহযোগিতায় জেলা-উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। তারই ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নিহত খোকন দাসের সৎকারের জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে তার পরিবারকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।
এ সময় তার সঙ্গে ডামুড্যা থানার ওসি মো. রবিউল হক ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট অমিত ঘটক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে দোকান বন্ধ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন খোকন চন্দ্র দাস। এ সময় ডামুড্যা-শরীয়তপুর সড়কে কেউরভাঙ্গা বাজারের অদূরে দুর্বৃত্তরা অটোরিকশার গতিরোধ করে তাকে মারধর শুরু করে।
একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তার মাথা ও মুখমণ্ডলে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। হামলা থেকে বাঁচতে খোকন চন্দ্র দাস সড়কের পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাত ১০টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
গত বৃহস্পতিবার অস্ত্রোপচার করা হলেও শরীরের বড় একটি অংশ পুড়ে যায় এবং আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে খোকন দাস মারা যান।



