শেরপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে লুটপাটের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দেলুয়ার হোসেন দুলাল (৪৯) নামের এক শিক্ষককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) শেরপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান মাহমুদ মিলন সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম মমিন। দেলুয়ার হোসেন দুলাল শেরপুর পৌর শহরের বাগরাকসা এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত মামুদ আলীর ছেলে।
এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন— মাসুদ পারভেজ তারা, শরীফ উদ্দিন আনসারী সোহান (৩২), মো. রানা (৩৫), মনোয়ারা পারভীন রানী (৫২), মোছা. ছালমা পারভীন ছানী, মোছা. সেলিনা (৫৫), মোছা. শিখা (৪৫) ও মোছা. সাবিনা ইয়াসমিন সূচনা (৪০)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে বাদী অহনাফ শাকিল প্রিন্স ও তার পরিবার ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। এমন খবর পেয়ে আসামিরা তার শেরপুরের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। বাড়িতে কেউ না থাকায় আসবাবপত্র ভাঙচুরসহ স্বর্ণালংকার, নগদ মালামাল, ঠিকাদারি লাইসেন্স, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই ও জমির দলিলপত্র লুট করা হয়। এ ঘটনায় প্রায় ২৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের করেন বাদী।
পরে আদালত মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পিবিআই জামালপুরকে দেন। পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. স্বপন মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে দণ্ডবিধির ৩৮০/৩৪ ধারায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে আদালতে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তবে কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হলে বাদী পক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে নারাজি আবেদন করেন। এরপর আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
সিআইডির তদন্ত শেষে নতুন প্রতিবেদন দাখিলের পর বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে শেরপুর সদর থানার পুলিশ চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে। শুনানি শেষে আদালত অন্যান্য আসামিদের জামিন মঞ্জুর করলেও ৩ নম্বর আসামি দেলুয়ার হোসেন দুলালের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


