শীত মৌসুম এলেই গ্রামাঞ্চলের ঘরে ঘরে তৈরি হয় পিঠা, পায়েস, পুলি ও নানা রকমের সুস্বাদু খাবার। এসব খাবারের অন্যতম প্রধান উপকরণ হলো আখের গুড়।
সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর চরাঞ্চলজুড়ে আখের রস দিয়ে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু গুড়, যার চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই গুড় পার্শ্ববর্তী জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয় আখের গুড় ব্যবসায়ী সোলায়মান হোসেন জানান, বাপ-দাদার আমল থেকে তারা প্রতি বছর পাঁচ থেকে ছয় মাস এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আখের মৌসুমে খেত কিনে আখ সংগ্রহ করে রস জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করা হয়। পরে তা জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয়। বর্তমানে প্রতিমণ গুড় ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিমণে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা লাভ থাকে।
গুড় তৈরির কারিগর আলতাফ, নাজমুলসহ আরও কয়েকজন জানান, প্রতিদিন খেত থেকে আখ সংগ্রহ করে মেশিনে ভেঙে রস বের করা হয়। পরে বড় চুলায় জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করা হয়। গুড়ের চাহিদা বাড়ায় প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। এতে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় হয়, যা দিয়ে তাদের সংসার ভালোভাবেই চলছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মুনজুরে মাওলা জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৫০ হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৬০০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ সম্পন্ন হয়েছে। সাদা চিনির চাহিদা কমাতে এবং দেশীয় চিনি ও আখের গুড়ের উৎপাদন বাড়াতে এ বছর জেলায় ১২০ জন কৃষককে আখের চারা বা বীজসহ বিভিন্ন উপকরণ প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সিরাজগঞ্জে রং বিলাস ও ফিলিপাইনের কালো জাতের আখ চাষ করা হচ্ছে, যা শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এখানকার আখের গুড় সুস্বাদু হওয়ায় প্রতি বছর স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন