ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬

ময়লা সংগ্রহে মিলছে টাকা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ১১, ২০২৬, ১১:২৯ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

পৌর শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে গতিশীল করতে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়েছেন শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক হাজী আব্দুস সাত্তার। শহরের রাস্তাঘাটে পড়ে থাকা পলিথিন, গাছের পাতা ও বিভিন্ন ধরনের ময়লা সংগ্রহ করে বস্তায় ভরে নির্দিষ্ট স্থানে জমা দিলে প্রতি বস্তার জন্য দেওয়া হচ্ছে ১০০ টাকা। জমা দেওয়ার পরপরই সেই ময়লা আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি এই শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রকল্প চালু করা হয় এবং ৫ মার্চ নতুন করে আরও ৫৫ জন স্বেচ্ছাসেবীকে এ কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে জেলার দরিদ্র, অসহায় ও দুস্থ মানুষ প্রতিদিন ময়লা সংগ্রহ করে আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন।

সিরাজগঞ্জ শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তা ও দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এই দুই উদ্দেশ্য সামনে রেখে তিনি একাধিক কার্যক্রম চালু করেছেন।

শহরকে আবর্জনামুক্ত রাখতে অভিনব উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে শহরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে যুক্ত ৫৫ জন স্বেচ্ছাসেবীর জন্য ৩০টি বাইসাইকেল বিতরণ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবীদের হাতে এসব বাইসাইকেল তুলে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, শহরের বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত পৌঁছে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে এসব সাইকেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শহরের কাটাওয়াপাড়া এলাকার মনোয়ারা বেগম জানান, রাস্তার পাশে পড়ে থাকা পলিথিন ও বিভিন্ন ময়লা পরিষ্কার করে বস্তায় ভরে হাজী আব্দুস সাত্তারের অফিসে জমা দিলে প্রতি বস্তায় ১০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আমি ৮ বস্তা ময়লা সংগ্রহ করেছি বিনিময়ে ৮০০ টাকা পেয়েছি। এতে যেমন শহর পরিষ্কার হচ্ছে, তেমনি আমাদেরও আয় হচ্ছে।

মতি সাহেবের ঘাট এলাকার সুলতানা বেগমও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, আজ শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে তিন বস্তা পলিথিন ও ময়লা সংগ্রহ করে জমা দিয়েছি। এজন্য আমাকে ৩০০ টাকা দেওয়া হয়েছে। এতে আমি খুব খুশি।

এসব বিষয়ে হাজী আব্দুস সাত্তার বলেন, সিরাজগঞ্জ শহরকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখা সবার দায়িত্ব। যারা স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে শহরের পরিচ্ছন্নতায় কাজ করছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের দায়িত্বশীল মানুষের কর্তব্য।

তিনি বলেন, এই স্বেচ্ছাসেবীরা শহরের জন্য যে কাজ করছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাদের কাজকে আরও সহজ ও দ্রুত করার জন্যই বাইসাইকেলগুলো দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতেও শহরের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন। পরিবেশের ক্ষতি করে এমন পলিথিনের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। আমাদের আবর্জনা আমাদেরকেই পরিষ্কার করতে হবে। শহরকে আবর্জনামুক্ত রাখতে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; বরং সবার দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।

এ সময় নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলা এবং শহরের সৌন্দর্য রক্ষায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য শহরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। স্থানীয়দের মতে, এমন উদ্যোগ একদিকে শহরের পরিচ্ছন্নতা বাড়াবে, অন্যদিকে সমাজের অন্যদেরও জনকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।