সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা গ্রামে দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রী মনিরা খাতুনের মৃত্যু ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১১টায় উপজেলা চত্বরে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ভূমিহীন সংগঠন। কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা দেয় ‘নিজেরা করি’ এনজিও।
শুক্রবার (১ মে) বিকেলে নিজ ঘরের জানালার গ্রিলে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনাটি প্রথমে সাধারণ আত্মহত্যা হিসেবে দেখা হলেও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটে তার মৃত্যুর জন্য এক ব্যক্তিকে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে, যা এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
উদ্ধার হওয়া চিরকুটে মনিরা লিখে গেছে, সে ইচ্ছা করে মরতে চায়নি, বরং ভয়ভীতি ও মানসিক চাপের কারণে তাকে এই পথ বেছে নিতে হয়েছে। সেখানে এক যুবকের নাম-পরিচয়সহ মোবাইল নম্বর উল্লেখ করে তাকে তার মৃত্যুর জন্য একমাত্র দায়ী করা হয়।
চিরকুটে আরও উল্লেখ রয়েছে, আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে দীর্ঘদিন ধরে চাপ দেওয়া হচ্ছিল এবং তা অন্যের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়। শেষাংশে সে বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে জড়িত ব্যক্তির কঠোর শাস্তির দাবি জানায়।
স্বজনদের অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া চিরকুটে এত স্পষ্ট তথ্য থাকার পরও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। নিহতের বাবা মো. রইচ উদ্দিন তার মেয়ের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন।
এ ঘটনায় সোমবার সকালে চান্দাইকোনা উচ্চবিদ্যালয়ে এবং মঙ্গলবার সকালে রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্থানীয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, এনজিও কর্মী ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে পৃথক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
এ সময় বক্তারা মনিরার মৃত্যুর দ্রুত তদন্ত, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
রায়গঞ্জ থানার ওসি মো. আহসানুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে


