সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিনে মুক্ত হওয়ার পর বাদীপক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি ও মামলা তুলে নেওয়ার চাপ দেওয়ার অভিযোগে চাচা ও ভাতিজাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১২ জুলাই) ভোর রাতে উপজেলার জামতৈল এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- আব্দুল জলিল তালুকদারের ছেলে রুহুল আমিন তালুকদার ও তার চাচা মনতাজ তালুকদার।
মামলার এজাহার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কামারখন্দ উপজেলার জামতৈলের বাসিন্দা সাবিনা ইয়াসমিনের দায়ের করা জিআর- ২/২৬ নম্বর মামলায় তারা এজাহারভুক্ত আসামি। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০৭ (হত্যাচেষ্টা) ও ৩২৬ (গুরুতর জখম) ধারায় করা হয়েছে। সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে আসামিরা বাদীপক্ষকে মামলা তুলে নিতে চাপ, প্রাণনাশের হুমকি ও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাব্বির আহমেদ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার আবেদন করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা অন্যদের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। অপর দুই আসামি মনতাজ আলী তালুকদার ও কুরমান আলী নিয়মিত বাড়ির আশপাশে গিয়ে অশান্তি সৃষ্টি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। গত ১৩ মার্চ জুমার নামাজের পর সাব্বিরের বাবা ও চাচাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া গত ৮ মে সাব্বিরকে তুলে নিয়ে গুম করার হুমকি দেওয়া হলে মানসিক চাপে তার সিওপিডিতে আক্রান্ত বড় চাচা অসুস্থ হয়ে এনায়েতপুর হাসপাতালে ভর্তি হন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, রুহুল আমিন তালুকদার ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে উস্কানিমূলক পোস্ট এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনমূলক বার্তা পাঠিয়ে আসছেন। এসবের স্ক্রিনশটও সংরক্ষণ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, অভিযোগ তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। আদালত চার আসামিকে গত ৯ জুলাই হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত দিনে তারা হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
কামারখন্দ থানার এসআই মো. শহীদুল বলেন, আমাদের কাছে ৪ জন আসামিকে ধরার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।

