বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) দাপুটে জয় দিয়ে শুরু করল রংপুর রাইডার্স। টুর্নামেন্টের দিনের প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে একতরফা ব্যবধানে ৭ উইকেটে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে নুরুল হাসান সোহানের দল।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় রংপুর। শুরু থেকেই সেই সিদ্ধান্তের পূর্ণ সুফল পায় দলটি। রংপুরের নিয়ন্ত্রিত ও আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের মুখে পড়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। নির্ধারিত ২০ ওভার খেলতে না পেরে মাত্র ১০২ রানেই অলআউট হয়ে যায় তারা।
চট্টগ্রামের ইনিংসের প্রথম বলেই আঘাত হানে রংপুর। নাহিদ রানার বলে ইংলিশ ব্যাটার অ্যাডাম রশিংটন মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন। এরপর ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। তিনি ২০ বলে ৩৯ রান করেন। মির্জা বেগ ২৪ বলে ২০ রান যোগ করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।
মাঝ ও শেষের দিকে রংপুরের বোলারদের সামনে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে চট্টগ্রাম। শেষ আট ব্যাটারের মধ্যে কেবল একজন দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। আবু হায়দার রনি ২১ বলে ১৩ রান করেন। বাকিরা এক অঙ্কেই থেমে যান।
রংপুরের হয়ে বোলিংয়ে দুর্দান্ত ছিলেন ফাহিম আশরাফ। তিনি একাই শিকার করেন পাঁচটি উইকেট। তাকে ভালোভাবে সহায়তা করেন মোস্তাফিজুর রহমান, যিনি নেন দুটি উইকেট। অন্য বোলাররাও চট্টগ্রামের ব্যাটারদের ওপর সার্বক্ষণিক চাপ বজায় রাখেন।
১০৩ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়ায় আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করে রংপুর। ওপেনার লিটন কুমার দাস ও ডেভিড মালান শুরুতে সতর্ক থাকলেও দ্রুতই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। দুজনের ব্যাটে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি রংপুরের হাতে চলে আসে।
লিটন কুমার দাস অর্ধশতকের খুব কাছে গিয়ে আউট হন। ৩১ বলে ৪৭ রান করে তিনি সাজঘরে ফেরেন। এরপর তাওহীদ হৃদয় দ্রুত বিদায় নিলেও তাতে কোনো চাপ তৈরি হয়নি। অপর প্রান্তে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ফিফটি পূর্ণ করেন ডেভিড মালান। তিনি ৪৮ বলে ৫১ রান করে আউট হন।
শেষদিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও খুশদিল শাহ নির্ভার ব্যাটিংয়ে ৩০ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করেন। মাহমুদউল্লাহ ১ ও খুশদিল ৬ রানে অপরাজিত থাকেন।
এই জয়ের মাধ্যমে বিপিএলের নতুন মৌসুমে শক্ত বার্তা দিল রংপুর রাইডার্স। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্সে আত্মবিশ্বাসী শুরু করল দলটি।


