ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

দুর্নীতির মামলায় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নঈমুল হক চৌধুরীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুনশী আব্দুল মজিদ তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর শফিউল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে দুদকের মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন নঈমুল হক চৌধুরী। শুনানি শেষে আদালত তার আবেদন নাকচ করেন।

নঈমুল হক চৌধুরী সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনালগ্নে পরিচালক (অর্থ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে ছিলেন। দুদকের দায়ের করা মামলায় তিনি চার্জশিটভুক্ত ২ নম্বর আসামি। মামলার প্রধান আসামি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ডা. মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী এখনো পলাতক রয়েছেন।

এর আগে একই মামলায় গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও আটজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এ ছাড়া আগেও কয়েকজন কর্মকর্তা আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তা মঞ্জুর না করে কারাগারে পাঠান।

দুদকের এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ২০২৩ সালে তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্তে তৎকালীন উপাচার্য ডা. মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নঈমুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও গুরুতর অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়।

এরপর নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের সিলেট সমন্বিত জেলা কার্যালয় ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল উপাচার্য, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারসহ মোট ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। একই বছরের ২৫ এপ্রিল আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে এবং সিন্ডিকেট ও ইউজিসির অনুমোদন ছাড়াই বিধিবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সময় ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২২০ জনকে অস্থায়ীভাবে (অ্যাডহক) ছয় মাসের জন্য নিয়োগ দিয়ে বারবার মেয়াদ বাড়ানো হয়, কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী তাদের চাকরি স্থায়ী করা হয়নি।