সিলেট সফরে এসে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেননি সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। বিমানবন্দরে তাকে আনতে যাওয়া সরকারি গাড়ি ফিরিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘১২ তারিখের পর চড়ব।’
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটে। বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবার সিলেট সফরে যান তিনি। সকালেই বিমানযোগে সিলেটে পৌঁছান। তার আগমনের আগে থেকেই জেলা প্রশাসনের একটি সরকারি গাড়ি বিমানবন্দরে প্রস্তুত ছিল।
বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে অপেক্ষমাণ গাড়ি দেখে তিনি বলেন, ‘এটা কি সরকারি গাড়ি? আমি ১২ তারিখের পরে চড়ব। আপনারা এসেছেন, আমি কৃতজ্ঞ। আমি পাওয়ার এক্সারসাইজ করতে চাই না। ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখের পর চড়ব।’
সকালে সিলেট জেলা জামায়াত আয়োজিত ‘শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য শিক্ষাশিবির’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শফিকুর রহমান। এরপর নগরের কুদরতউল্লাহ মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন।
বিকেলে তিনি সিলেট প্রেস ক্লাব আয়োজিত ইফতার মাহফিলে এবং পরে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত আরেকটি ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রেস ক্লাবের ইফতার মাহফিলে তিনি বলেন, সরকারি দলের দায়িত্ব হচ্ছে ইতিবাচক ধারার রাজনীতির পরিবেশ তৈরি করা। সংসদের ভেতরে বা বাইরে সংঘাত দেশের জন্য কল্যাণকর নয়। সমন্বয়ের রাজনীতি জনগণের উপকারে আসবে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হচ্ছে ভারসাম্য। বিরোধী দল মানেই সবকিছুর বিরোধিতা এবং সরকার মানেই দমন—এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ‘দমনও চলবে না, অন্ধ বিরোধিতাও চলবে না,’ বলেন তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রত্যাশিত ফল না এলেও এবার তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনকে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করা হয়নি—এটিকে তিনি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘কালোকে কালো, সাদাকে সাদা বলবেন। আমার বিরুদ্ধেও কিছু পেলে বলবেন।’ সংবাদে বিকৃতি এলে সমাজ বিভ্রান্ত হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসান, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

