ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

‘বিশ্বনাথ-ওসমানীনগরে কোনো চাঁদাবাজের স্থান নেই’

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২৬, ১০:০৩ এএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘এখন দল-মত নির্বিশেষে ভালো মানুষের সমাগম ঘটানোর সময়। সময় এখন ভালো মানুষের রাজনীতির। বিশ্বনাথ-ওসমানীনগরে কোনো চাঁদাবাজের স্থান নেই; কোনো চোর-ডাকাত-সন্ত্রাসীর স্থান নেই। হয়রানিমূলক মামলা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের যারা আছেন, আপনারা নিরপেক্ষভাবে-নির্ভয়ে কাজ করবেন। দেশের জন্য, এই অঞ্চলের জন্য কাজ করবেন। আমার সহযোগিতা, তারেক রহমানের সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা আপনারা পাবেন।’

শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে সদ্য প্রয়াত সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সুহেল আহমদ চৌধুরীর রুহের মাগফেরাত কামনায় তার পরিবার আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি বিশ্বনাথ পৌরসভার কারিকোনা গ্রামে সুহেল আহমদ চৌধুরীর বাড়ির পূর্বের ফুটবল খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুমায়ুন কবির সুহেল আহমদ চৌধুরীর স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের কয়েক দিন আগে সুহেল ভাইয়ের সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল। সব সময় তিনি আমাকে বলতেন, আপনি গাড়িতে জাতীয় পতাকা লাগিয়ে বিশ্বনাথে আসেন, বাদবাকি তিনি দেখবেন। এখন আল্লাহ পতাকা দিয়েছেন। পতাকা লাগিয়ে বিশ্বনাথে এসেছি। কিন্তু সুহেল ভাই নেই! ইনশাআল্লাহ, তিনি যে পতাকার আশা করেছিলেন, সে পতাকার মানসম্মান যাতে আমি রক্ষা করতে পারি। সুহেল ভাই ছিলেন বিশ্বনাথের মাটি ও মানুষের নেতা। তিনি সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে চলতেন। তাকে আমি আমার দৈনন্দিন জীবনে খুব মিস করি। তার মাধ্যমেই এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে আমি পরিচিত হয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ওসমানীনগরে তিনটি স্কুল বানালে বিশ্বনাথে চারটি বানাব। ওসমানীনগরে দুটি রাস্তা বানালে বিশ্বনাথে বানাব তিনটি। বিশ্বনাথে আজ ইলিয়াস আলী সাহেব রাজনীতিতেই নেই, নেই সুহেল আহমদ চৌধুরীও। মনে করবেন না, বিশ্বনাথের মানুষ এতিম হয়ে গেছেন। বিশ্বনাথের জন্য আমি আছি। আপনাদের কোনো ডরভয় নেই। বিশ্বনাথের মানুষের কীসের ডরভয়! আর আপনারাও তো আছেন আমার সঙ্গে। আমারও কোনো ভয় নেই।’

বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়ার সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও অলংকারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী এবং সিলেট জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আহমদ। টেলিকনফারেন্সে বক্তব্য দেন সুহেল আহমদ চৌধুরীর যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ছোট ভাই ও বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুমন পারভেজ চৌধুরী।