ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

কোম্পানীগঞ্জে ১ কোটি টাকার অবৈধ কালা পাথর জব্দ

কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী উৎমা ছড়া পাথর কোয়ারি ও আশপাশের এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে প্রায় ৯৪ হাজার ৩৯০ ঘনফুট অবৈধভাবে মজুত করা ‘কালা পাথর’ জব্দ করেছে সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হিসাবে জব্দকৃত পাথরের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খনিজ সম্পদ বিভাগের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, উৎমা ছড়া কোয়ারি সংলগ্ন বনপুর, আদর্শ গ্রাম ও মাঝেরগাঁও বিজয়পাড়ুয়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৯৩ হাজার ৭৯০ ঘনফুট এবং আরও ৬০০ ঘনফুটসহ মোট ৯৪ হাজার ৩৯০ ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পাথর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের জিম্মায় রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিলামের মাধ্যমে পাথর বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশে রাতের আঁধারে উৎমা ছড়া থেকে পাথর অবৈধভাবে উত্তোলন ও পাচার করা হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি গাড়ি পাথর পরিবহনের জন্য ‘লাইন’ বাবদ প্রায় ৬ হাজার টাকা করে আদায় করা হতো। এর মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের অবৈধ অর্থ লেনদেন চলছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই ঢাকা থেকে খনিজ সম্পদ বিভাগের একটি দল সরাসরি অভিযান পরিচালনা করে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোট-বড় পাথর মিলিয়ে প্রতি ঘনফুটের বাজারমূল্য ৮০ থেকে ১০০ টাকা হওয়ায় জব্দকৃত পাথরের মোট মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা।

অভিযানের বিষয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হান বলেন, জব্দকৃত পাথর বিধি মোতাবেক নিলামে বিক্রি করা হবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় অবৈধ পাথর উত্তোলন, মজুত ও পাচারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।