বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যজোটের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত ৫৪ বছরে দেশে অনেক নির্বাচন হয়েছে। অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রতিশ্রুতি প্রতিশ্রুতির জায়গাতেই রয়ে গেছে। জুলাই যুদ্ধে যুবকেরা একটি দাবি তুলেছিলেন—উই ওয়ান্ট জাস্টিস। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ইনসাফ থাকবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। আমরা আগামীতে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশব্যাপী প্রচারণার অংশ হিসেবে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা বসন্তের কোকিল নই। অতীতে অনেক জুলুম-নির্যাতন সহ্য করার পরও আমরা দেশ ছাড়িনি, এই মাটি ছেড়ে যাইনি। দুঃখের সময় আমরা আপনাদের পাশে ছিলাম, সুখের সময়ও আপনাদের সঙ্গেই থাকব। আমরা জাতিকে পিছিয়ে নিতে চাই না, আমরা জাতিকে এগিয়ে নিতে চাই। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সুষ্ঠু নির্বাচন জাতি আদায় করে ছাড়বে।
তিনি আরও বলেন, এটি কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। এটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন। দেড় হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধার রক্তের বিনিময়ে এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জুলাই যোদ্ধাদের সম্মানে তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি ঐক্যজোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সামনে টাঙ্গাইলের ৮টি আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের ঢাকা উত্তরাঞ্চলের সদস্য হযরত মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান মাদানী, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য সাইফুল ইসলাম, খেলাফত মজলিশের সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার শাহাবুদ্দিন প্রমুখ।
এই জনসভাকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন সড়কে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের জনস্রোত দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।


