প্রায় তিন দশক পর টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী গোয়ালবাড়ী খাল পুনর্খননের কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বালু জমে ভরাট হয়ে থাকা এই খালটি পুনরুজ্জীবিত হলে এলাকায় কৃষি, মৎস্য ও পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খাল পুনর্খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। এ উপলক্ষে শাখারিয়া আশ্রয়ন প্রকল্প মাঠে এক কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান।
সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম রুবেল, পৌর বিএনপির সভাপতি খালিদ হাসান উথান, উপজেলা যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম লেলিন, হেমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম রোজ তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খানসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা খাল পুনর্খনন উদ্যোগকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে এর সুফল সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’ (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে এই খাল পুনর্খনন করা হচ্ছে। প্রকল্পের মাধ্যমে খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণসহ সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও করা হবে। এতে প্রায় সাড়ে তিনশ অতিদরিদ্র মানুষের অস্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, খালটি পুনর্খনন সম্পন্ন হলে ভূঞাপুর-তারাকান্দি যমুনা বাঁধের শাখারিয়া স্লুইস গেটের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে উজানের পানি সহজে খালে প্রবেশ করবে এবং শুষ্ক মৌসুমে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন সহজ হবে।
স্থানীয়রা জানান, সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে খালটি খনন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে যমুনা নদীর বালু জমে খালটি ভরাট হয়ে পড়ে। এতে পানি চলাচল ব্যাহত হয় এবং আশপাশের বিল ও জলাশয়গুলোতে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।
ভোলারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দীন বলেন, 'খালটি সচল হলে বর্ষাকালে যমুনার রেণুপোনা স্লুইস গেট দিয়ে আশপাশের বিলগুলোতে প্রবেশ করবে। এতে প্রাকৃতিকভাবে মাছের উৎপাদন বাড়বে, যা স্থানীয় মানুষের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।'
সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, খাল পুনর্খননের ফলে এলাকায় সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। এতে রোপা আমন ও বোরো ধানের আবাদ সম্প্রসারণ সম্ভব হবে। তিনি খালের দখলকৃত অংশ দ্রুত উচ্ছেদে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে গোয়ালবাড়ী খাল পুনরুদ্ধারের এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চল আবারও ফিরে পাবে তার প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ ও কৃষিভিত্তিক সমৃদ্ধি।

