ঢাকা রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

বিদ্যালয় আছে, যাতায়াতের রাস্তা নেই, স্কুল ছেড়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা 

ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের ফজলুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। চারপাশে গাছগাছালিতে ঘেরা মনোরম পরিবেশে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে দোতলা একটি ভবন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে ওঠা এই বিদ্যালয়ের ভেতরে সব সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান। কিন্তু যাতায়াতের রাস্তা নেই। তা নিয়ে দুর্ভোগ চরমে। রাস্তা না থাকায় অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। এতে কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এমন অবস্থায় বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য রাস্তা নির্মাণের দাবি ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবকসহ এলাকাবাসীর।

ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের ফজলুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০০৪ স্থাপিত হয়। জাতীয়করণ হয় ২০১৩ সালে। বিদ্যালয়ে  চারজন শিক্ষকসহ শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৮৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বলে জানা গেছে বিদ্যালয় সূত্রে। 

স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের। শুষ্ক মৌসুমে জমির আইল ও বাড়ির ঝোপঝাড় দিয়ে চলাচল করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। ফলে বিদ্যালয়ে যাতায়াত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার কমে গেছে। বিদ্যালয়ের সংলগ্ন ১৫ থেকে ২০ গজ দূরে রাস্তা থাকলেও এই বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তা নেই।

খেতের পানি শুকিয়ে গেলে হেঁটে চলাচল করতে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল হওয়ায় অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন বলেও জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় রিপন বলেন, বিদ্যালয়ের আশপাশে বাড়ি দিয়ে যাতায়াত করলে বকা শুনতে শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের। তাই বাধ্য হয়েই পানির মধ্য দিয়েই পারাপার হতে হয়। এতে অনেক সময় পড়ে গিয়ে বই ও পোশাক ভিজে যায়।

ফজলুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আমিনুল হক বলেন, ‘যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় অন্যত্র শিক্ষার্থী চলে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের পরিবেশ। তাই শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে দ্রুত স্থায়ী রাস্তার দাবি জানাই।’ 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার আলী বলেন, ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি থাকলেও বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ভাগ উপস্থিতির হার নেমে আসে।’ 

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুনা বলে, ‘রাস্তা না থাকায় আমরা স্কুলে আসতে পারছি না। অন্যজনের বাড়ির ভেতর দিয়ে আসতে হচ্ছে। আমাদের খুব কষ্ট হয়। আমরা উপজেলা ইউএনও স্যার এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে রাস্তাটি করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। 

ধনবাড়ী উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, রাস্তা করতে প্রধান শিক্ষকের লিখিত আবেদন পেলেই রাস্তার সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।