টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরসভার তিনটি উন্নত পাবলিক টয়লেট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গার্বেজ স্টেশন (ডাম্পিং প্ল্যান) নির্মাণ প্রকল্পে কাটছাঁট হয়েছে। দুটি টয়লেটসহ গার্বেজ স্টেশনের বরাদ্দের পৌনে দুই কোটি টাকা ফেরত নিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। বাকি একটি পাবলিক টয়লেটের নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে।
বরাদ্দ ফেরত যাওয়ার বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক জানতেন না। তবে প্রকল্প অফিস বলছে, চিঠির মাধ্যমে অবগত করা হয়েছে। অনুসন্ধানে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে নানা তথ্য।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে দেশের ৩০টি প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইলের মধুপুর, ধনবাড়ী ও ভুঞাপুর পৌরসভায় স্যানিটেশন, ওয়াটার সাপ্লাইসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলমান। ২০২০-২১ অর্থবছরে স্যানিটেশন অংশে তিনটি মাল্টিপারপাস পাবলিক টয়লেট ও ময়লা প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য গার্বেজ স্টেশন (ডাম্পিং প্ল্যান) বরাদ্দ হয়। এ প্রকল্পের প্যাকেজে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। লেস দিয়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৬৮ লাখে।
জনস্বাস্থ্য বিভাগের আহ্বানে টেন্ডার আহ্বান করা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের দি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারস ওই কাজ পায়। কিন্তু কাজ দৃশ্যমান হয়নি। জায়গা সংকটের অজুহাতে তিনটির মধ্যে দুটি পাবলিক টয়লেটের অর্থ ফেরত যায়। সাথে আলাদা ৬০ লাখ টাকার গার্বেজ স্টেশনও ফেরত গেছে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আল আমিন হোসেন অর্থ ফেরতের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ‘আধুনিক দ্বি-তলবিশিষ্ট এই পাবলিক টয়লেট জনবহুল এলাকায় নির্মাণের শর্ত ছিল। কিন্তু সাবেক মেয়র, আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিক হোসেন খান তিনটি টয়লেটের জন্য জায়গা নির্ধারণ করে দিতে পারেননি। ব্যক্তি মালিকানার ও শর্তের বাইরে দেখানো জায়গায় কাজ করা সম্ভব হয়নি। ফলে সময় পার হয়ে যাওয়ায় দুটির অর্থ ফেরত গেছে। অপরটি মধুপুর হাটবাজার এলাকার বংশাই নদীর ধারে নির্ধারিত স্থানে শুরু হলেও ঠিকাদার কাজ চালিয়ে যাননি। এখন সেটিও বন্ধ আছে।’
অন্যদিকে, টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ট্রেড বিল্ডো মাল্টিপারপাস সাব কন্ট্রাক্টে কাজ করতে এসে নানা অজুহাতে গড়িমসি করেছে। প্রতিষ্ঠানের জনৈক রিয়াজ জানান, ‘প্যাকেজের পুরো কাজ পেলে স্বাচ্ছন্দ্যে করা যেত। তবুও নানা প্রতিকূলতায় কাজ শুরু করলে সহকারী প্রকৌশলী নির্মাণ সামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে কাজ বন্ধ করে দেন। ফলে প্রস্তুতিতে অনেক অর্থ ব্যয় হলেও কাজ এগোয়নি। এ পর্যন্ত প্রায় ২২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। লস মেনেও কাজ ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করছে।’
পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন জানান, ‘গত বছর ২৪ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার আগেই জায়গা নির্ধারণের জটিলতায় পাবলিক টয়লেট প্রকল্প ঝুলে গিয়েছিল। কাজের ধীরগতি ও সময় উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব ব্যাংক অর্থ ছাড়ে আগ্রহী হয়নি। ফলে দুটি পাবলিক টয়লেট ও ডাম্পিং প্ল্যানের অর্থ ফেরত গেছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘প্রকল্প অফিস বা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বিষয়টি তাকে অবগত করেনি। অর্থ ফেরত যাওয়ার পর তিনি বিষয়টি জানতে পারেন।’
সহকারী প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) মাহমুদুর রশীদ মজুমদার জানান, ‘ঋণের টাকায় গৃহীত প্রকল্প নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিধিনিষেধ আছে। তাই জায়গা সংকটসহ নানা জটিলতায় মধুপুর পৌরসভার পুরো প্রকল্প অনিশ্চয়তায় পড়ায় দুটি পাবলিক টয়লেট ও ডাম্পিং প্ল্যানের অর্থ ফেরত গেছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘যথাসময়ে লিখিতভাবে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। আন্তরিক থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি পৌর প্রশাসকের চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।’
তিনি আরও স্বীকার করেন, ‘দুটি পাবলিক টয়লেট ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ডাম্পিং প্ল্যান না হওয়ায় প্রথম শ্রেণির মধুপুর পৌরসভা বঞ্চিত হয়েছে।’
বাকি থাকা বন্ধ কাজ সম্পর্কে তিনি জানান, ‘কাজের মানের প্রশ্নে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি।’
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন