ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

পিআইওকে মারধরের ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের নেতা গ্রেপ্তার

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৮:২১ এএম
গণঅধিকার পরিষদের নেতা মামুনুর রশিদ মামুন। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরনবী সরকারকে মারধরের ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মামুনুর রশিদ মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দিনাজপুর শহরের সুইহারি ড্রাইভারপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করেন রানীশংকৈল থানার ওসি আমানুল্লাহ আল বারি।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে রাণীশংকৈল উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনকালে পিআইও নুরনবী সরকারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগে বলা হয়, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুর রশিদ মামুন, উপজেলা সভাপতি সোহরাব আলী, সাধারণ সম্পাদক জাফর আলীসহ কয়েকজন তার কক্ষে ঢুকে মারধর করেন এবং অফিসে ভাঙচুর চালান।

এ ঘটনায় পিআইও নুরনবী সরকার বাদী হয়ে মামুনুর রশিদ মামুন, সোহরাব আলী, জাফর আলী, জিয়াউর রহমান, সাংবাদিক রাকিব ফেরদৌসসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে পৌর শহরের ভান্ডারা এলাকা থেকে জিয়াউর রহমান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

পিআইও নুরনবী সরকার অভিযোগ করে বলেন, মামুনুর রশিদ মামুন বিভিন্ন সময়ে আমার কাছে ভাগ বাটোয়ারা দাবি করতেন। আমি রাজি না হওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরিকল্পিতভাবে অফিসে এসে আমার শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া করেন এবং সোহরাব ও জাফর আমাকে মারধর করেন। তারা অফিস কক্ষ তছনছ করেন। 

তিনি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর ৮ এপ্রিল ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ এবং বাংলাদেশ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার সমিতি এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। একই দিনে রাণীশংকৈল অফিসার্স ক্লাবও পৃথক প্রতিবাদ বিবৃতি দেয়।

অন্যদিকে মামলায় জিয়াউর রহমান জিয়া ও রাকিব ফেরদৌসকে আসামি করার প্রতিবাদে স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি অংশ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিবৃতি দিয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের দাবি, জিয়াউর রহমান জিয়া ও রাকিব ফেরদৌস ঘটনার সময় ভিডিও ধারণ করতে গিয়েছিল। কিন্তু সিসিটিভির ফুটেজে তাদের দেখে মামলায় আসামি করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রহমতুল্লাহ রনি বলেন, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মামুনুর রশিদ মামুনকে দিনাজপুর কোতয়ালী থানা পুলিশের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।