ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। আর এই উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হওয়া ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে চারুকলা প্রাঙ্গণে বইছে উৎসবের আমেজ। দিন-রাত এক করে শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে।
রঙ-তুলির আঁচড়ে ব্যস্ত শিল্পীরা
চারুকলা অনুষদ ঘুরে দেখা যায়, পুরো চত্বর এখন শিল্পী ও শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। কেউ বিশাল আকৃতির বাঘ, সিংহ কিংবা মা ও শিশুর ডামি তৈরি করছেন, কেউ ব্যস্ত সরাচিত্র আর মুখোশ রাঙাতে। বাঁশের চটা, কাঠ আর কাগজের মণ্ড দিয়ে তৈরি হচ্ছে লোকজ ঐতিহ্যের নানা মোটিফ। প্রতি বছরই একটি বিশেষ থিম বা স্লোগানকে সামনে রেখে এই প্রস্তুতি চলে, যা প্রতিফলিত হয় শোভাযাত্রার শিল্পকর্মে।
তহবিল সংগ্রহে সরাচিত্র ও শিল্পকর্ম
মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন মূলত চারুকলার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয়। এই বিশাল আয়োজনের খরচ মেটাতে তারা বিক্রি করেন নিজেদের তৈরি জলরঙের ছবি, সরাচিত্র এবং ছোট-বড় নানা মুখোশ। চারুকলার গেটেই প্রদর্শিত হচ্ছে এসব শিল্পকর্ম, যা সাধারণ দর্শনার্থীরা বেশ আগ্রহ নিয়ে কিনছেন। এখান থেকে অর্জিত অর্থই ব্যয় করা হয় শোভাযাত্রার মূল কাঠামো তৈরিতে।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা
ইউনেস্কোর ‘অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এই মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ঘিরে নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বয় করে চারুকলা ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে। শোভাযাত্রার রুট এবং মানুষের অংশগ্রহণ যেন নির্বিঘ্ন হয়, সে লক্ষে কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবকরা।
অশুভ শক্তির বিনাশের প্রত্যাশা
আয়োজক কমিটির একজন শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের এবারের প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য হলো জীর্ণতাকে পেছনে ফেলে নতুন এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা। লোকজ সংস্কৃতির এই বৈচিত্র্যময় উপস্থাপনের মাধ্যমে আমরা অশুভ শক্তির বিনাশ আর সম্প্রীতির বার্তা দিতে চাই।”
পহেলা বৈশাখের ভোরে বর্ণিল এই শোভাযাত্রা যখন শাহবাগ মোড় প্রদক্ষিণ করবে, তখন তা কেবল একটি মিছিল থাকবে না, বরং তা হয়ে উঠবে বাঙালির ঐক্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন