ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

রাজধানীতে বাস থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল ও ২১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
গ্রেপ্তারকৃত আজগর আলী ওরফে ভোলা। ছবি- সংগৃহীত

রাজধানীর শ্যামপুর এলাকায় ঢাকা–মাওয়া মহাসড়কে একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে দুটি বিদেশি পিস্তল ও ২১ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আজগর আলী ওরফে ভোলা (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান লালবাগ গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মোস্তাক সরকার।

তিনি জানান, লালবাগ বিভাগের একটি গোয়েন্দা দল বিশেষ অভিযানে চাঁনখারপুল এলাকায় অবস্থানকালে গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে, সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে করে এক অস্ত্র ব্যবসায়ী ঢাকায় প্রবেশ করছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে দুপুর দেড়টার দিকে শ্যামপুর পশ্চিম ধোলাইপাড় এলাকার ঢাকা–মাওয়া মহাসড়কের বনফুল মিষ্টির দোকানের সামনে অবস্থান নেয় ডিবি লালবাগ টিম।

দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে বেনাপোল থেকে আসা সোহাগ পরিবহনের বাসটিকে থামিয়ে সুপারভাইজার ও হেলপারের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্র বহনকারী সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আটক করা হয়। পরে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয় আজগর আলী ওরফে ভোলা হিসেবে।

ডিসি মোস্তাক সরকার জানান, আজগর আলীর দেহ তল্লাশি করে তার কোমরের এক পাশ থেকে একটি রুপালি রঙের বিদেশি পিস্তল ও কালো স্কচটেপে মোড়ানো দুটি রুপালি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। অপর পাশ থেকে একটি কালো রঙের বিদেশি পিস্তল ও স্কচটেপে মোড়ানো আরও দুটি কালো ম্যাগাজিন পাওয়া যায়। পরে তার প্যান্টের পকেট থেকে স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় ২১ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বাড়ি যশোর জেলার বেনাপোল থানায়। তার বিরুদ্ধে ২০২১ সালে খিলগাঁও থানায় অস্ত্র মামলা এবং ২০২৪ সালে সাভার থানায় বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। পুলিশের ধারণা, তিনি একজন অস্ত্র ব্যবসায়ী।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এসব অস্ত্র ঢাকায় আনা হয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবি কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে এসব অবৈধ অস্ত্রের উদ্দেশ্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অস্ত্রের উৎস এবং ঢাকায় কার কাছে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল—সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।