ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

পরিকল্পিত ও নিরাপদ ঢাকা গড়তে নতুন ইমারত বিধিমালার ওপর জোর

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার পরিকল্পিত, টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০২৫’ নিয়ে বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর পুরকৌশল বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে নগর পরিকল্পনা, ভবন নিরাপত্তা, নির্মাণের গুণগত মান ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা।

রোববার (১২ জুলাই ২০২৬) আইইবি সদর দপ্তরের শহীদ প্রকৌশলী ভবনের কাউন্সিল হলে অনুষ্ঠিত সেমিনারে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), আইইবি, ঢাকা ওয়াসা এবং দেশের খ্যাতনামা পুরকৌশলী ও নগর পরিকল্পনাবিদরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজউকের চেয়ারম্যান ও আইইবির প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম রিজু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা ওয়াসার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রকৌশলী আলমগীর হাসিন আহমেদ।

সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আইইবির সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান। পরে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০২৫’-এর কারিগরি ও ব্যবহারিক বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজউকের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১ বিভাগের পরিচালক মো. মনিরুল হক।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইইবি পুরকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ মিজানুর রহমান (খোকন)। সেমিনার সঞ্চালনা করেন বিভাগের সম্পাদক প্রকৌশলী মো. নিয়াজউদ্দীন। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিভাগের ভাইস-চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. আয়ুব আলী।

পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু সহনশীল নগর গড়ার লক্ষ্য

সেমিনারে বক্তারা বলেন, ঢাকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও আবাসন চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন বিধিমালায় ভবনের উচ্চতা, সেটব্যাক এবং ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) নির্ধারণে পরিবেশগত ভারসাম্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতের ঢাকাকে একটি সবুজ, নিরাপদ ও জলবায়ু সহনশীল নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই নতুন বিধিমালার অন্যতম লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তারা।

ভবন নিরাপত্তা ও নির্মাণ মান নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব

আলোচনায় আধুনিক স্থাপত্য, ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, নতুন বিধিমালায় ভবন নির্মাণের প্রতিটি পর্যায়ে গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ ও স্ট্রাকচারাল সেফটি নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নির্দেশনা রাখা হয়েছে।

ডিজিটাল হবে নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়া

সেমিনারে রাজউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে ইমারত নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক করা হবে। এর ফলে নাগরিক ভোগান্তি কমার পাশাপাশি অনুমোদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।

সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব

বক্তারা বলেন, ভবন নির্মাণ ও নগর ব্যবস্থাপনায় ঢাকা ওয়াসা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি। অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এবং অবকাঠামোগত সংকট মোকাবিলায় এ সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশ নেওয়া প্রকৌশলী ও নগর পরিকল্পনাবিদরা প্রস্তাবিত বিধিমালার বিভিন্ন কারিগরি দিক নিয়ে মতামত দেন। তারা কিছু অসঙ্গতি সংশোধন করে দ্রুত বিধিমালাটি চূড়ান্ত ও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

সেমিনারের শেষ পর্যায়ে প্রধান অতিথি রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম রিজু বলেন, সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত ও গঠনমূলক পরামর্শ বিবেচনায় নিয়েই ‘ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০২৫’ চূড়ান্ত করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন বিধিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।