প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান বিএনপি সরকারের শক্তির মূল ভিত্তি জনগণ। জনগণের আস্থা ও সমর্থন যতদিন থাকবে, ততদিন কোনো প্রতিবন্ধকতাই সরকারকে লক্ষ্যপূরণ থেকে বিরত রাখতে পারবে না।
সোমবার সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ডপ্রাপ্ত নারীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
আলোচনার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলেন এবং ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে তারা কী ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন, সে বিষয়ে জানতে চান। জবাবে পারুল আখতার নামে এক উপকারভোগী জানান, এই কার্ডের কারণে তার পরিবারের আর্থিক চাপ কিছুটা কমেছে এবং সংসার পরিচালনা সহজ হয়েছে। ভবিষ্যতেও সরকারের এমন সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে গৌরনদী এলাকায় প্রায় ৬০০ পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে। তবে এখনও যেসব পরিবার এই সুবিধার বাইরে রয়েছে, তাদেরও পর্যায়ক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, সারা দেশে প্রায় ৪ কোটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে সরকার।
তিনি বলেন, আজকের মতবিনিময়ে অংশ নেওয়া নারীদের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড তাদের পারিবারিক ব্যয় ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের মা-বোনদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তোলা।
দেশব্যাপী এই কর্মসূচি সফল করতে সরকারের পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ কেবল আর্থিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। নারীদের শিক্ষা, সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধিতেও ফ্যামিলি কার্ড কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান মর্যাদা নিশ্চিত করে মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে দেশকে এগিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সব ধর্মের মানুষের দীর্ঘদিনের সহাবস্থানের ঐতিহ্য বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছে। সেই ঐতিহ্য ধরে রেখে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনে সরকার কাজ করবে।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছাবে। তিনি নতুন স্লোগান তুলে ধরে বলেন, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ এই লক্ষ্য নিয়েই বর্তমান সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

