× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

টেলিগ্রামে বিদেশি বিনিয়োগের নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

গ্রেপ্তারকৃত ৩ জনের মধ্যে দুই জন। ছবি: সংগৃহীত

গ্রেপ্তারকৃত ৩ জনের মধ্যে দুই জন। ছবি: সংগৃহীত

টেলিগ্রামে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া বিনিয়োগ গ্রুপ পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় পৃথক দুই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিআইডির মিডিয়া বিভাগ। 

ঢাকা মহানগরের পল্টন থানায় ২০২৫ সালের একটি মামলায় রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন ডক শিপইয়ার্ড এলাকা থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. ইমরান (৩২) ও মো. ফাহিম (২৪)।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ফাহিম এই মামলার এজাহারভুক্ত ৫ নম্বর আসামি। তার ব্যাংক একাউন্টে মামলার বাদী দুই দফায় ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭৬ টাকা পাঠায় বলে জানতে পেরেছে সিআইডি।

একই বছরে পল্টন থানায় দায়ের করা অপর একটি মামলায় আসাদুজ্জামান রাব্বিকে (২৫) রোববার মিরপুর পাইকপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

মামলার তদন্তে জানা যায়, প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে টেলিগ্রাম অ্যাপে ‘বিদেশি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম’সহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় নামে ভুয়া গ্রুপ খুলে অল্প সময়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে প্ররোচিত করত।

ভুক্তভোগীরা গ্রুপে যুক্ত হলে সেখানে আগে থেকেই যুক্ত কিছু সদস্য বিনিয়োগ করে স্বল্প সময়ে অধিক লাভ করেছে—এমন ভুয়া ও সাজানো পোস্ট দিত। প্রকৃতপক্ষে এসব সদস্যই ছিল চক্রের সক্রিয় সহযোগী এবং পোস্টগুলো ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।

এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ প্রলুব্ধ হয়ে গ্রুপের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে অর্থ প্রেরণ করত। এসব অ্যাকাউন্ট অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তৃতীয় ব্যক্তির নামে খোলা ছিল, যাদের অনেকেই প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।

পরবর্তীতে প্রতারকরা এসব অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেন ও আত্মসাৎ করত। এভাবে বহু বিনিয়োগকারী সর্বস্ব হারিয়েছে।

তদন্তে আরও জানা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ নগদে রূপান্তরের জন্য চক্রটি অভিনব কৌশল ব্যবহার করত। মূলহোতা ফারদিন আহমেদ বিভিন্ন গাড়ির শোরুম থেকে ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে গাড়ি ক্রয় করে স্বল্প সময়ের মধ্যে কম দামে বিক্রি করে কাগজে লোকসান দেখিয়ে নগদ অর্থ উত্তোলন করত। এই পদ্ধতিতেই অবৈধ অর্থ ‘ক্যাশ আউট’ করা হতো।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অপরাধকর্মে ব্যবহৃত ফাহিমের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ করছিল অপর ধৃত আসামি ইমরান। উক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণের কারণে ইমরান তাকে মাসিক কিস্তিতে কমিশন প্রদান করত। গ্রেপ্তার দুজনই অবৈধ টেলিগ্রাম গ্রুপের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত এবং পরস্পর যোগসাজশে এজাহারভুক্ত গ্রেপ্তার ফাহিমের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৪৮ লাখ টাকা লেনদেন করেছে।

সন্দিগ্ধ গ্রেপ্তার অভিযুক্ত ইমরানের মোবাইল ফোনে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিষিদ্ধ ‘বাইন্যান্স’ অ্যাকাউন্টসহ ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার মো. ইমরান (৩২) ও মো. ফাহিম (২৪) ইতিপূর্বে গাজীপুর জেলার বাসন থানার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেল হাজতে আটক ছিলেন বলে জানা যায়।

আসাদুজ্জামান রাব্বিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পূর্বে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত সাগরের সঙ্গে যোগসাজশে তিনি অপরাধকর্মে সম্পৃক্ত ছিলেন। রাব্বির কাছ থেকে জব্দকৃত ডিভাইসে ভুয়া টেলিগ্রাম আইডির সন্ধান পাওয়া গেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, সাগরের অনুপস্থিতিতে অবৈধ টেলিগ্রাম গ্রুপের কার্যক্রম সাগরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সন্দিগ্ধ গ্রেপ্তার আসামি আসাদুজ্জামান রাব্বি পরিচালনা করে আসছিলেন। রাব্বি সাগরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং অন্যান্য সব টেলিগ্রাম গ্রুপের সদস্যদের তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন—এমন তথ্যও পাওয়া গেছে।

গ্রেপ্তার মো. ইমরান, মো. ফাহিম ও আসাদুজ্জামান রাব্বি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার অপরাধ স্বীকার করেছেন। মামলা-সম্পর্কিত আরও তথ্য প্রাপ্তির লক্ষ্যে তাদের ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!