ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বড় ধরনের হামলা, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা গভীর হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২ মার্চ) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৩৪৮ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৩৬২ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছেছে।
রোববার তেহরানে নতুন করে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এর জবাবে ইরান আরও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। খামেনি নিহত হওয়ার একদিন পর পাল্টাপাল্টি এ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে যায়।
বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত স্বর্ণের দাম চলতি বছর ধারাবাহিকভাবে রেকর্ড উচ্চতায় উঠছে। স্বাধীন বিশ্লেষক রস নরম্যান বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার সবচেয়ে ভালো সূচক সম্ভবত স্বর্ণ। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার নতুন যুগে প্রবেশ করায় স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।’
২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। এ উত্থানের পেছনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর শক্তিশালী ক্রয়, এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড তহবিলে বড় বিনিয়োগ এবং মার্কিন মুদ্রানীতি শিথিল হওয়ার প্রত্যাশা কাজ করছে।
গত সপ্তাহে জেপি মরগান এবং ব্যাংক অফ আমেরিকা জানিয়েছে, স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ডলারের স্তরের দিকে উঠতে পারে। জেপি মরগান পূর্বাভাস দিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীদের শক্ত চাহিদার কারণে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ৩০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জানুয়ারিতে উৎপাদক পর্যায়ের পণ্যমূল্য প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে বলে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এতে সামনের মাসগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা চলতি সপ্তাহে শ্রমবাজারসংক্রান্ত বিভিন্ন সূচক পর্যবেক্ষণ করবেন।
অন্যদিকে, স্পট সিলভারের দাম ১ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৯৪ দশমিক ৯৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। স্পট প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৩৭২ ডলারে পৌঁছেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭৭৯ দশমিক ৮০ ডলারে নেমেছে।
বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও স্বর্ণের মূল্য বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে মূল্য সমন্বয় করা হয়।
সবশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস দেশে স্বর্ণের দাম বাড়ায়। বর্তমানে দেশে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা। ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন