× UCB Sticker Card
বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

ক্যাপাসিটি চার্জের নামে টাকা পাচারের মহাযজ্ঞ

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

বিনা টেন্ডারে দায়মুক্তি আইন বা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইনের নামে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেই অনুমতি দেয় একের পর এক কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের। দেশের বড় বড় কোম্পানিও তখন ঝাঁপিয়ে পড়ে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির নামে টাকা পাচারের মহাযজ্ঞে।

এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৯-১০ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে, অর্থাৎ মাত্র ১৪ বছরে, এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকরা ক্যাপাসিটি চার্জের নামে দেশ থেকে পাচার করেছে ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৬ কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে শুধু সামিট গ্রুপই পাচার করেছে ১০ হাজার ৬২৩ কোটি টাকা। বছরওয়ারি যার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।

তৎকালীন সরকার নিজের সুবিধা অর্জনে ভারতের কোম্পানি আদানি গ্রুপকেও দেয় বিশেষ ছাড়। আর তারা দেশ থেকে হাতিয়ে নেয় ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর বাইরেও দেশীয় বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে কনফিডেন্স গ্রুপ পাচার করে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বাংলাট্র্যাকের মাধ্যমে পাচার হয় ৩ হাজার কোটি টাকা। শিকদার গ্রুপ পাচার করে দেড় হাজার কোটি টাকা। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা মেয়াদে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের কারণে এখন বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে বিএনপি সরকারকে। আর এর খেসারত দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে জ্বালানি বিভাগ।

ক্ষমতা গ্রহণের শুরুর দিকে আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যুতের তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে জরুরিভাবে চালু করেছিল কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। বিনা টেন্ডারে দায়মুক্তি আইন বা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইনের নামে এসব কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা বহু আগে শেষ হলেও আওয়ামী লীগ সরকার নিজেদের সুবিধার্থে এসব কেন্দ্র চালু রেখে অর্থ পাচারের সুযোগ করে দেয়।

বহু আগেই দেশে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে। কিন্তু এখনো ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে। রূপালী বাংলাদেশকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। রূপালী বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার খেসারত হিসেবে এখনো অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে উৎপাদন না করলেও ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ আইন বাতিল করলেও যেসব চুক্তি হয়ে আছে, সেগুলো তো আর বাতিল করা সম্ভব নয়। তাই বর্তমান সরকারকে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে গচ্চা দিতে হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। যেগুলোর বেশির ভাগেরই মালিক তৎকালীন সরকারের নিকটাত্মীয়রা।

তিনি বলেন, স্বজনপ্রীতির খাতিরে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৫ বছরে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে পাচার করেছে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকার মতো।

জানা যায়, গণঅভ্যুত্থানে পতিত আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ বরাদ্দ রেখেছিল ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ক্যাপাসিটি চার্জ দেয় ৩৬ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। তৎকালীন সরকার অবশ্য তখন বলেছিল, দেশে আর কোনো কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নেই। কিন্তু এখনো অনেক কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কিছু কেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু সেটা খুবই নগণ্য। ফলে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে এখনো কোটি কোটি টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে সরকারকে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য মতে, সামিট, সিকদার, ইউনিক ও রিলায়েন্সের গ্যাসভিত্তিক বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ২০২৪ সালে উৎপাদনে এলেও গ্যাস সংকটে কেন্দ্রগুলো প্রায় প্রতিদিনই বন্ধ থাকে। মাঝে মাঝে গ্যাস পেলে কেন্দ্রগুলো আংশিক চালানো হয়। মাত্র ছয় মাসেই ইউনিকের কেন্দ্রটির জন্য ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে খরচ হয়েছে ৪৭৭ কোটি টাকা। ২২ বছর মেয়াদের এসব কেন্দ্র চুক্তি অনুযায়ী ২০৪৫ সাল পর্যন্ত চলবে। পটুয়াখালীতে বাংলাদেশ-চীন যৌথ উদ্যোগে আরও একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে। এর চুক্তি শেষ হবে ২০৫০ সালে। নির্মাণাধীন আরও কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, যেগুলো ২০২৬-২৭ সালের দিকে চালু হবে। চলবে ২০৪৯ সাল পর্যন্ত। এর আগ পর্যন্ত এসব কেন্দ্রের ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারকে টানতে হবে ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা।

জানা যায়, ২০১০ সালে দায়মুক্তি আইন বা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন ২০১০ করে আওয়ামী লীগ সমর্থক ব্যবসায়ীদের উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ সক্ষমতায় ব্যবহার করা হবে- এমন শর্তে লাইন্সেস দেওয়া হলেও কেন্দ্রগুলো গড়ে চলেছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ কেন্দ্রগুলো বছরের ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ উৎপাদন করেনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেয়াদ শেষ হলেও আওয়ামী লীগ সরকার নিজেদের স্বার্থে বছরের পর বছর মেয়াদ বাড়িয়েছে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর। অর্থাভাবে যখন দেশের অন্যান্য খাত ধুঁকছিল তখনো শুধু কতিপয় ব্যক্তির স্বার্থে এগুলোকে টিকিয়ে রাখে বিগত সরকার।

জানা যায়, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) এক হাজার ৪৩০ কোটি টাকার ঋণে নির্মিত খুলনা ১৫০ মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি জ্বালানির অভাবে উৎপাদন করেছে সক্ষমতার মাত্র আট থেকে ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ। একই অঞ্চলে ১৫০ মেগাওয়াটের ডুয়েল-ফুয়েল আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও বসে রয়েছে। যার নির্মাণ ব্যয় এক হাজার ২৭০ কোটি টাকা। একইভাবে জ্বালানির অভাবে খুলনায় ২২৫ মেগাওয়াটের আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও উৎপাদন করতে পারছে না। কিন্তু গত ১১ বছরে ওই কেন্দ্রে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ সরকারকে দিতে হয়েছে এক হাজার ৮২৪ কোটি টাকা। এটির মেয়াদ শেষ হবে ২০৩৬ সালে। যদি উৎপাদন নাও করে, তারপরও ওই সময় পর্যন্ত কেন্দ্রটিকে বসিয়ে বসিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হবে চার হাজার ২০০ কোটি টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে গত দেড় দশকে বিদ্যুৎ খাতে ডজনখানেক কোম্পানি ফুলেফেঁপে উঠেছে। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে। তার নির্দেশনাতেই বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ দেওয়া হতো পছন্দের কোম্পানিকে। বিশেষ আইনের সুযোগ নিয়ে টেন্ডার ছাড়াই নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে সই হতো এসব চুক্তি। প্রয়োজন না থাকলেও বাড়ানো হতো মেয়াদ। এমনই সুবিধা পাওয়া কেন্দ্রগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্রের এগ্রিকো ইন্টারন্যাশনাল। তাদের ঘোড়াশাল ১৪৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রটি ২০১০ সালের আগস্টে উৎপাদনে আসে। কেন্দ্রটির জন্য এগ্রিকোর বিনিয়োগ ছিল ৫৬০ কোটি টাকা। তিন বছরমেয়াদি কেন্দ্রটির মেয়াদ কয়েক দফা বাড়িয়ে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চালানো হয়। এই আট বছরে এগ্রিকো শুধু ক্যাপাসিটি চার্জই নিয়েছে দুই হাজার ৫০২ কোটি টাকা, যা বিনিয়োগের প্রায় সাড়ে চারগুণ।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য মতে, গত ১৫ বছরে ক্যাপাসিটি চার্জ আদায়ে শীর্ষে ছিল সামিট গ্রুপ। বর্তমানে গ্রুপটির এক হাজার ৯৮১ মেগাওয়াটের আটটি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনছে পিডিবি। শেখ হাসিনা পরিবারের ঘনিষ্ঠদের এই ব্যবসায়ী গ্রুপ গত দেড় দশকে শুধু বিদ্যুতের ক্যাপাসিটি চার্জ থেকে আয় করেছে ১৪ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ইউনাইটেড গ্রুপ পাঁচটি কেন্দ্রের জন্য ১৫ বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ আদায় করেছে। সামিট ও ইউনাইটেডের যৌথ বিদ্যুৎ কোম্পানি খুলনা পাওয়ারে (কেপিসিএল) দুই গ্রুপের ৩৫ শতাংশ করে শেয়ার রয়েছে। কেপিসিএল এ পর্যন্ত চার্জ নিয়েছে চার হাজার কোটি টাকা। সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী গ্রুপ বাংলা ক্যাট পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে ছয় হাজার ৩১২ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ আদায় করেছে। আরেক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিপুর বাংলা ট্র্যাকের ৪৯ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। সেখান থেকেও কয়েক শ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ নেওয়া হয়েছে।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব চিত্র। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি দিয়ে কমিশন বাণিজ্য হয়েছে। এর মাধ্যমে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি নয়ছয় হয়েছে। বিনা দরপত্রে চুক্তি করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের অতিরিক্ত ক্যাপাসিটি চার্জ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। কয়েকবার চুক্তি নবায়নের সময়ও তাদের ক্যাপাসিটি চার্জ বেশি দেওয়া হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আমলা, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের সুবিধাজনক (বাড়তি) দর, শর্ত ইত্যাদি আদায়ের সুযোগ করে দিত। আর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়া এ ধরনের চুক্তি সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল ৩২ হাজার কোটি টাকা। যার বেশির ভাগই গিয়েছে এসব রেন্টাল বা কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালন ব্যয়ে। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ২৮ হাজার কোটি টাকা, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। টাকার অবমূল্যায়নসহ নানা কারণে মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে ক্যাপাসিটি চার্জের পরিমাণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির বেশির ভাগ অর্থই এসব বেসরকারি রেন্টাল-কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ মেটাতে ব্যয় করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও তাদের উৎপাদন ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে একটি নির্দিষ্ট ফি দিতে হয়। এই পরিমাণ অর্থ বিদ্যুতের অন্যান্য কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার হলে তা দেশের জন্য উপকার হতো বলে মনে করছেন তারা।

দেশে চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকায় অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বসিয়ে বসিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে সরকার বাধ্য উল্লেখ করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ২০০৯-১০ সালের বিদ্যুৎ খাত এবং এখনকার বিদ্যুৎ খাত এক নয়। তখন জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছিল। চুক্তিগুলো ছিল তিন থেকে পাঁচ বছরের। কিন্তু এরপর এগুলোর সঙ্গে একই শর্তে কেন চুক্তি নবায়ন করা হলো আমি বুঝতে পারছি না।

তিনি বলেন, যখন দেখা গেল চাহিদার চেয়ে ৪০ থেকে ৪৮ ভাগ ক্যাপাসিটি বেশি তখনই তো সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার ছিল। দেশ এখন একটি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখন এগুলোকে বসিয়ে বসিয়ে ভাড়া দেওয়া অর্থনীতির বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, যদিও আমরা বলে থাকি প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমাদের গড়ে সাড়ে সাত থেকে আট টাকা যায়। কিন্তু বাস্তবে কেন্দ্রভিত্তিক হিসাবের সঙ্গে যদি কুইক রেন্টাল যুক্ত করা হয় তাহলে কোনো কোনো কেন্দ্র থেকে সরকারকে প্রতি কিলোওয়াট আওয়ার বিদ্যুৎ কিনতে হয় ৬০০ টাকায়। এটা বসিয়ে রেখে ভাড়া দেওয়ার কারণে এমনটা হচ্ছে। আর এর চাপ নিতে হচ্ছে দেশের মানুষকে।

অর্থ পাচারের বিষয়টি অস্বীকার করে সামিট পাওয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ লতিফ খান রূপালী বাংলাদেশকে এক বিবৃতিতে বলেন, আমাদের প্রকৌশলীরা গত ১৫ বছর ধরে কোনো বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বা নিরাপত্তাজনিত সমস্যা ছাড়াই অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করেছেন এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। সামিটের আরও দুটি পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র আশুলিয়া-১ (২০০৩) এবং মাধবদী-১ (২০০৩), যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ইঞ্জিন ব্যবহৃত হয়েছে প্রাথমিক ১৫ বছরের মেয়াদ এবং পরবর্তী ৫ বছরের প্রথম নবায়নের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তির নবায়ন হয়েছিল। তবে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় চলতি বছরে এসব কেন্দ্র পরিচালিত হয়নি। আমরা সন্তুষ্ট যে, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তাদের কার্যকর পরিচালনকালজুড়ে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং স্বল্প ব্যয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

একইভাবে, নারায়ণগঞ্জ ইউনিট-১ প্রাথমিক ৫ বছরের চুক্তি এবং নবায়িত চুক্তির মেয়াদ সফলভাবে সম্পন্ন করে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছে। ২০২৫ সালে সামিট পাওয়ার লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির জন্য সম্ভাব্য ক্রেতা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এসেট পার্চেজ এগ্রিমেন্টে স্বাক্ষর করে, যার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ ইউনিট-১ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সম্পূর্ণভাবে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে দেশের বিদ্যুতখাতে সামিট গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। অর্থ পাচারের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন তিনি।

এসব বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের স্বেচ্ছাচারিতায় কুইক রেন্টালের অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে ছিল না। প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও তারা নিজেদের স্বার্থে মুদির দোকানের মতো বিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদন দিয়েছে। বিশেষ আইন বাতিল করেও চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে এখনো আমাদের ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। ফলে জ্বালানি খাতের উন্নয়নে বেগ পেতে হচ্ছে স্বাভাবিকভাবেই।

Link copied!