ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জ্বালানির প্রভাব বাজারে, নিত্যপণ্যের দামে নতুন চাপ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
নিত্যপণ্য। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভিড়। আর সেই ভিড়ের ভেতরে এক ধরনের অস্বস্তি স্পষ্ট। প্রায় সবার মুখেই একই প্রশ্ন—‘দাম এত বাড়ছে কেন? কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে চাল, ডাল, তেল, সবজি, মাছ-মাংস—প্রায় সব ক্ষেত্রেই আগের তুলনায় বেশি দাম গুনতে হচ্ছে। 

বিশেষ করে চাল, চিনি ও ডিমের মতো প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সংসার চালানো এখন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেকেই বলছেন, আয় আর ব্যয়ের হিসাব এখন আর মিলছে না।

বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই বাড়তি দামের পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে জ্বালানি তেল। জ্বালানির দাম বাড়ার পর থেকেই পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় পণ্য আনতে এখন আগের তুলনায় বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। সেই অতিরিক্ত খরচই ধাপে ধাপে পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে যুক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত পড়ছে ক্রেতাদের কাঁধে।

কারওয়ান বাজারের এক খুচরা বিক্রেতা বলেন, ‘আগে যে খরচে পণ্য আনতাম, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি লাগে। পরিবহন ভাড়া বেড়েছে, সঙ্গে অন্য খরচও। তাই আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

একই বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, ‘বাজারে এসে এখন আগের মতো করে কেনাকাটা করা যায় না। প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেই কষ্ট হচ্ছে। অনেক কিছু বাদ দিতে হচ্ছে, তবেই কোনোমতে মাস চলে।’

অর্থনীতিবীদদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধি কোনো একক কারণে হচ্ছে না; বরং এটি এক ধরনের ধারাবাহিক প্রভাব। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়ে, তার প্রভাব পড়ে পাইকারি বাজারে, সেখান থেকে খুচরা বাজারে। ফলে পণ্যের দাম ধাপে ধাপে বাড়তে থাকে। অন্যদিকে আয়ের প্রবৃদ্ধি সেই হারে না বাড়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু বাজার মনিটরিং দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। জ্বালানি খাত, পরিবহন ব্যবস্থা এবং সরবরাহ চেইনের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, সেটি কমানো না গেলে বাজারে স্বস্তি ফিরবে না।

সব মিলিয়ে, নিত্যপণ্যের এই ঊর্ধ্বমুখী বাজারে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলো প্রতিদিনই নতুন করে হিসাব কষতে বাধ্য হচ্ছেন। বাজারে স্বস্তি ফেরাতে হলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।