ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

দুই ধাপে নতুন পে-স্কেল, কমছে বেতন বৃদ্ধি

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ১০:০১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো (নবম পে-স্কেল) দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকেই নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হতে পারে। আর বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করা হতে পারে ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হলেও বেতন কমিশনের সুপারিশের তুলনায় বেতন বৃদ্ধির হার কমানো হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর হলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাড়তি অর্থ হাতে পাবেন আরও কিছুদিন পরে। কারণ বাস্তবায়ন কৌশল চূড়ান্ত করা, প্রশাসনিক আদেশ জারি, গেজেট প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লাগবে। ফলে জুলাই থেকে কার্যকর হলেও বর্ধিত বেতনের অর্থ একসঙ্গে বকেয়াসহ অক্টোবর মাসে পরিশোধ করা হতে পারে।

গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এসময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১ জুলাই কমিশনের সুপারিশ করা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, ২০২৭ সালের ১ জুলাই বাকি ৫০ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন ভাতা কার্যকর করার পরিকল্পনা ছিল।

তবে বাস্তবায়নের হিসাব করতে গিয়ে দেখা যায়, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কমিশনের সুপারিশের মাত্র অর্ধেক কার্যকর করলে প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি খুবই সামান্য হবে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মোট বেতন কমে যাওয়ারও আশঙ্কা তৈরি হয়।

এর প্রেক্ষিতে সরকারি চাকরিজীবীদের আপত্তির পর বাস্তবায়ন পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হচ্ছে। তিন ধাপের পরিবর্তে এবার দুই ধাপে বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন মূল বেতন এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরের শুরু থেকে নতুন ভাতা কার্যকর করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নবম বেতন কমিশনের প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। কমিশন বিভিন্ন গ্রেডে ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করলেও বাস্তবায়নের সময় সেই হার কিছুটা কমানো হবে। একই সঙ্গে কয়েকটি ভাতা ও অতিরিক্ত সুবিধার ক্ষেত্রেও কমিশনের সুপারিশ সীমিত আকারে কার্যকর হতে পারে।